শ্রীমন্তী
সত্যেন্দ্রনাথ
নিস্তব্ধ দুপুরে, নয়তো নিরালা সন্ধ্যায়
বসে আছি শ্রীমন্তীর সাথে
ঘাটে ফেরেনি নৌকো
সন্ধ্যা নামছে ধীরে
একটু পরে চাঁদ আসবে নেমে
আমাদের মাঝে
সুন্দর সুগন্ধি ধূপের গন্ধ
নাকে লাগে। ভারতীয়
চন্দনের গন্ধে যখন মন মাতোয়ারা
গোলাপের সৌরভ তখন বড়ই
আমোদে আত্মহারা।
নদীর তীরে মাছরাঙা পাখি র দুর্বল আর্তনাদ
শ্রীমন্তী বলে উঠলো — চলো অন্য কোথাও
আমাদের স্মৃতি ঘেঁটে দেখি চমকে উঠলো
এক অজানা বিস্ময়।
তুমি কে? কেন আমার কাঁধে মুখ রেখে
জ্বলে উঠছো রাতে র পাখির মতোই
দেখি, ধনে পাতার গন্ধে নাক বুঁজে
আসছে পাখিদের কলতান শোনা যায় ।
নদীর স্রোত তখন অজানা শৈশবের ভেলায়
আছি তোমার পাশে। শ্রীমন্তী রাগ নয় , অভিমান
বড়ই স্পর্শ কাতর তাই তোমাকে ভালোবাসি।
যদিও চিনিনা তোমার আকুল আকুতি
ধরা দাও শ্রীমন্তী, ধরা দাও।
আমি মনের আনন্দে মেতে আছি
এমন সময় এসোনা অজানা লোকটা র সঙ্গে
কলকাকলিতে মিলে অজানা সৌরভে।
স্মৃতির জানালা খুলে দেখি তুমি ছিলে
এখন আর নেই নিঃশর্ত দুপুরে।
কেন, কেন গো অভিমানী শ্রীমন্তী?
দুটোই আজ তন্দ্রাহারা নিশীথ রাতের
ফল্গুধারা। তবে এসেও কেন গেলে ফিরে
জবাব দিও। আমি দোষ দেবো না তোমাকে
দোষী করবো আমার ভাগ্যটা কে।
নদী যেমন প্রাণ ফিরে চায়। সাগরে মেলার আগে।
ওগো শ্রীমন্তী
তোমার আরাধনায় এসে রেখে যাও মোর আঁখির
প্রাণ। আমি নিশ্চিত হই।
