ট্রাম্পের ক্ষমতায় বসার সাথে সাথেই গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে কূটনীতিককে পদত্যাগের নির্দেশ কি আসলে বাংলাদেশের উপর প্রথম পোরক্ষে সতর্কবাণী?

 ট্রাম্পের ক্ষমতায় বসার সাথে সাথেই গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে কূটনীতিককে পদত্যাগের নির্দেশ কি আসলে বাংলাদেশের উপর প্রথম পোরক্ষে সতর্কবাণী?

সুবিমল দাস :

বাংলাদেশ নীতি নির্ধারক কমিটির প্রধান বার্নিকাটকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়ে সদ্য শপথ নেওয়া ডোনাল্ড ট্রাম্প কি বুঝিয়ে দিলেন আগামী দিনে বাংলাদেশের উপর তার নজরদারি এবং নীতি নির্ধারণ স্বতন্ত্র হতে চলেছে? বার্নিকাট ছিলেন একসময় বাংলাদেশের মার্কিন রাষ্ট্রদূত পরবর্তী ক্ষেত্রে তিনি হন আমেরিকার বিদেশ দপ্তরের ডিরেক্টর জেনারেল। কিন্তু কেন স্বপদে বসার আগেই ডোনাল্ড ট্রাম্প বাংলাদেশ নীতি নির্ধারণ কমিটির প্রধান কে সরিয়ে দিলেন? এ নিয়ে কিন্তু রাজনৈতিক মহল যথেষ্ট চর্চা শুরু করেছে। সূত্র অনুযায়ী, ডোনাল্ড ট্রাম্প বরাবরই ইউনুস এর চিন্তাভাবনা বিরোধী। এখন সেই ইউনুসই বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা। এর আগে হিলারি ক্লিনটনের অনুগত হয়ে আমেরিকায় বিভিন্ন সংস্থায় বাংলাদেশকে নিয়ে তাঁর কি ভাবনা রয়েছে সবিস্তারে সেখানে ব্যাখ্যা দেন। বাস্তব হলো, বাংলাদেশে প্রধান উপদেষ্টা হয়ে মোহম্মদ ইউনুস ক্ষমতাসীন হওয়ার পরেই বাংলাদেশে কট্টরপন্থীদের আস্ফালন বেড়েই চলেছে এবং নানান অশান্তির খবর পাওয়া যাচ্ছে। এর আগে নির্বাচনের প্রাক্কালে বাংলাদেশ নিয়ে ট্রাম্প বলেছিলেন — ‘অশান্ত বাংলাদেশে হিন্দু ,খ্রিস্টান ও অন্যান্যদের উপর প্রতিনিয়ত অত্যাচার বেড়েই চলেছে। হচ্ছে লুটতরাজ, আমি এইসবের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আমি ক্ষমতায় এলে এসবের বিরুদ্ধেই লড়বো এবং আগামী দিনে সারা বিশ্বে শান্তি ফিরিয়ে আনব’। সম্প্রতি প্রধান উপদেষ্টা থাকাকালীন ইউনুস ‘বিল ক্লিনটন ফাউন্ডেশনে’র এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ নিয়ে তাঁর করনীয় কি সে ব্যাপারে মত প্রকাশ করেন। যদিও ট্রাম্প এসবই ভালোভাবে নেননি বলে তিনি নিজেই জানিয়েছেন। উল্লেখ্য- ২০১৬ সালে হিলারী ক্লিনটনকে হারিয়ে ট্রাম্প জেতার পরে প্যারিসের কোন এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের বর্তমানের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মোঃ ইউনুস বলেছিলেন- ‘আমেরিকায় ট্রাম্পের এই জয় আগামী তে হবে সূর্য গ্রহণের মত, আসবে কালো দিন এবং তা যেন আমাদের গ্রাস না করে দেয়।’ পরবর্তীতে বিজয়ী ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল শুভেচ্ছা জানাতে গেলে বর্তমান সদ্য বিজয়ী মার্কিন রাষ্ট্রদূত ডোনাল্ড ট্রাম্প সেই দলকে সেই সময় বলেন-” আপনাদের দেশের মাইক্রোফিনান্সার কোথায়? যিনি আমাকে হারাতে চাঁদা দিয়েছিলেন!!”। নানান চুলচেরা বিশ্লেষণ এর মধ্য দিয়েই মনে করা হচ্ছে ক্ষমতায় ফিরেই পৃথিবীর মহাশক্তিধর রাষ্ট্র আমেরিকার রাষ্ট্রপ্রধান বাংলাদেশ কে নতুন নীতি নির্ধারণের মধ্যে দিয়ে আবদ্ধ করে বাংলাদেশের উপর বাড়তি নজর রাখবেন? নাকি বাংলাদেশ থাকবে বাংলাদেশেই ? বাংলাদেশ অস্থিরতা কাটিয়ে কবে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে তা বলবে আগামীতেই।

সারথি  নিউজ অনলাইন