সম্প্রতি ছত্তিশগড়ের বস্তার জেলায় সাংবাদিক হত্যা আর মাও হানায় নিরাপত্তা রক্ষীর মৃত্যু নিয়ে সারা রাজ্যেই চাঞ্চল্য – একদিকে কঠোর শাস্তির দাবী এবং অন্যদিকে কৌশল নিয়ে প্রশ্ন !

 সম্প্রতি ছত্তিশগড়ের বস্তার জেলায়  সাংবাদিক হত্যা আর মাও হানায় নিরাপত্তা রক্ষীর মৃত্যু নিয়ে সারা রাজ্যেই চাঞ্চল্য – একদিকে কঠোর শাস্তির দাবী এবং অন্যদিকে কৌশল নিয়ে প্রশ্ন !

সারথি সংবাদ প্রতিনিধি : 

একদিকে ছত্তিশগড়ের বস্তার জেলার সাংবাদিক তথা ইউটিউবার মুকেশ চন্দ্রকর হত্যা যেমন ছত্তিশগড় জুড়ে আলোরণ তুলেছে তেমনি একই জেলার সম্প্রতি মাওবাদীদের হানায় ৯ নিরাপত্তা রক্ষীর মৃত্যু চাঞ্চল্য তৈরি করেছে। যদিও সাংবাদিক হত্যার মূল অভিযুক্ত ঠিকাদার সুরেশ চন্দ্রকরকে সিট হায়দ্রাবাদ থেকে গ্রেফতার করে নিয়ে এসেছে। মূল অভিযুক্ত ঠিকাদার সুরেশ ছিলেন কংগ্রেসের সাধারণ সদস্য। মূলত সাংবাদিকতার আদর্শের প্রতি দায়বদ্ধতা রেখে নির্ভীক সাংবাদিক মুকেশচন্দ্র বিজাপুরের প্রভাবশালী ঠিকাদার সুরেশের নির্মাণ সংস্থার একটি দুর্নীতির পর্দা ফাঁস করেছিলেন , যার জেরে সুরেশ তাকে টার্গেট করে হত্যা করতে উদ্বত হয় এবং সফলও হয় । কিন্তু আসামি এলাকা ছেড়ে অন্যত্র গা ঢাকা দিলেও নিস্তার পায়নি। তারই সংস্থার এক কর্মীর বাড়িতে হায়দ্রাবাদ এ গাঢাকা দেয় সুরেশ। ঠিকাদার ঠিক কি কারনে সাংবাদিক হত্যার ছক করল পুলিশ এ ব্যাপারে সবদিক খতিয়ে দেখতে সচেষ্ট হয়েছেন । তৎপরতার সাথে সাংবাদিক হত্যায় ছত্তিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণু দেওসাই জানান- জনপ্রিয় সাংবাদিক তথা নিবেদিত প্রাণ মুকেশের মৃত্যু দুঃখজনক, অপরাধী কোনোভাবেই রেহাই পাবে না। হত্যার দোষীদের কঠোর শাস্তি প্রদান করা হবে।

অন্যদিকে একই জেলায় ছত্তিশগড়ের বস্তারের বিজাপুরে মাওবাদীদের হামলায় ৮ ডি আর জি (দান্তেওআরা ডিস্ট্রিক্ট রিজার্ভ)জওয়ান এবং তার সাথে তাদের গাড়ির ড্রাইভার এর মৃত্যু হয়েছে। ন’জনের মৃত্যুর ঘটনায় ছোট্টিশগড় জুড়ে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হয়েছে। বিশেষ গোপন সূত্রে খবর পেয়ে নিরাপত্তা রক্ষীরা একটি যৌথ অভিযান করে ফিরছিলেন তার আগেই তাদের নিশানা করে মাওবাদীরা। অভিযান থেকে ফেরার পরেই আইআইডি বিস্ফোরণ করে নিরাপত্তা রক্ষীদের উড়িয়ে দেয়। উল্লেখ্য, ছত্তিশগড় নিরাপত্তাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ অভিযানে সম্প্রতি ৪ মাওবাদীকে নিকেশ করা হয়। সেই ঘটনার বদলা নিতেই কি মাওবাদীদের এই মরিয়া প্রয়াস? দুদিন আগেই অবুঝ মারের জঙ্গলে দুই কট্টর মাও মহিলা সহ পাঁচ জনকে খতম করে যৌথ বাহিনী। সেখান থেকে ak-47 সহ প্রচুর বিস্ফোরক সামগ্রী উদ্ধার করা হয়। উল্লেখ্য , সারা দেশ থেকে মাওবাদী নির্মূল করার জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সেই মতো ছত্তিশগড়ে মাওবাদী তৎপরতা ও নির্মূল লক্ষ্যে নিরাপত্তারক্ষীরা জোর কদমে প্রস্তুতি নিয়েছেন। সেই রাগেই নিরাপত্তারক্ষীদের কোনঠাসা মাওবাদীদের জোরালো আক্রমণের মুখে পড়তে হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল । গণতন্ত্র প্রিয় সচেতন নাগরিক ছত্তিশগড়ের বস্তার জেলার একই সময়ে সাংবাদিক এবং নিরাপত্তারক্ষীর মৃত্যুতে নিন্দা এবং দোষীদের গ্রেপ্তারের জোরালো দাবি করেছেন এবং শোকার্ত পরিবারদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন।।

সারথি  নিউজ অনলাইন