ঝানু রাজনীতিবিদ বিজেপি’র লকেট চ্যাটার্জি কে পর্যদুষ্ট করে অনভিজ্ঞ রচনা ব্যানার্জি কি পারবে তৃণমূলের মুখে হাসি ফোটাতে?

 ঝানু রাজনীতিবিদ বিজেপি’র লকেট চ্যাটার্জি কে পর্যদুষ্ট করে অনভিজ্ঞ রচনা ব্যানার্জি  কি পারবে তৃণমূলের মুখে হাসি ফোটাতে?

বিশেষ সংবাদ সারথি প্রতিনিধি

হঠাৎ করেই রাজনীতিতে একেবারেই আনকোরা অভিনেত্রী দিদি নাম্বার ওয়ান এর সঞ্চালিকা রচনা ব্যানার্জি তৃণমূল কংগ্রেসের হুগলি লোকসভা নির্বাচনের কেন্দ্রের পদপ্রার্থী হয়ে গেলেন, নাকি তাকে ওই কেন্দ্রের প্রার্থী করে দেওয়া হলো!- কেনই বা করে দেওয়া হলো?-তা নিয়ে নেট দুনিয়ায় বেশ কিছুদিন ধরেই চর্চা। হঠাৎ করেই রাজনীতিতে আগত, একেবারেই অনভিজ্ঞ ,বলা চলে রাজনীতি বিমুখ রচনা ব্যানার্জি এবারের লোকসভা নির্বাচনে ২০২৪ এ তৃণমূল কংগ্রেস কিরকম ফলাফল করবে তা জানাতে গিয়ে একদম প্রথমে তিনি নিজেই সহাস্য জানিয়েছিলেন-কেন যে আমাকে দিদি প্রার্থী করলেন? কি দেখে প্রার্থী করলেন?

বর্তমানে জনপ্রিয় দিদি নাম্বার ওয়ান এর সঞ্চালিকা টিভিতে পরিচিত মুখ হলেও রাজনীতি সম্পর্কে একেবারেই বিমুখ কিন্তু কেন তাকে টিকিট দিলেন তা বিশ্লেষণে দেখা যায়- হুগলি জেলায় এই মুহূর্তে বিজেপি ক্রমেই শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। তারপর সেখানে বিজেপির বিদায়ী সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায় এই মুহূর্তে বেশ ঝানু রাজনীতিবিদে পরিণত হয়েছে, স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত দলে তাঁর ভূমিকা দেখে প্রশংসা করেছেন। এই সময় হুগলি লোকসভা কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেসের পরিণত কোন রাজনৈতিক নেতাকে টিকিট দিলে দলীয় কোন্দল বাড়তো এবং সে ক্ষেত্রে বিজেপি প্রার্থীকে (লকেট)কতখানি প্রতিহত করে তৃণমূল কংগ্রেস প্রচারে এগিয়ে থাকতেন- তা নিয়ে জননেত্রী নিজেই সংশয়ে ছিলেন! এক্ষেত্রে একদা তৃণমূল কংগ্রেসেরই সমর্থক বর্তমানে বিজেপি নেত্রী তথা লড়াকু মহিলা বিজেপি প্রার্থীর বিকল্প হিসেবে রচনার নামই বিশেষ পছন্দের পদপ্রার্থী হিসেবে হুগলি লোকসভা কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিট দেওয়ার ব্যাপারে চূড়ান্ত করেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। কারণ- রচনা ব্যানার্জি রাজনীতিতে অনভিজ্ঞ হলেও তার নিজস্ব জনপ্রিয়তা কিছুটা হলেও ভোট বাক্সে প্রতিফলন ঘটবে, নেত্রী সেটা অবহিত। উল্লেখ্য ১৯৯৩ সালে “দান-প্রতিদান” সিনেমায় প্রথম তিনি বাংলা সিনেমায় অভিনয় করেন। বাংলা সিনেমায় সাফল্য অর্জন করার সাথে সাথে তিনি উড়িয়া সিনেমাতেও অভিনয় করার সুযোগ পেয়ে যান। কিন্তু তার আগে তিনি তেলেগু, কানাra সিনেমাতেও অভিনয় করেন । এমনকি অভিনয় করেন বিগ বি অমিতাভ বচ্চনের সাথেও । পরবর্তী ক্ষেত্রে উড়িষ্যার তৎকালীন পয়লা নম্বর জনপ্রিয় অভিনেতা সিদ্ধান্ত মহাপাত্রের সাথে ডুয়েল জুটিতে সিনেমা করতে থাকেন এবং উড়িয়া সিনেমা জগতেও জনপ্রিয়তা অর্জন করেন এবং আবদ্ধ সম্পর্ক থেকে পরবর্তী সময়ে অভিনেতা সিদ্ধান্তর সংগ ত্যাগ করেন, যদিও সিদ্ধান্ত মহাপাত্র রাজনীতিতে প্রবেশ করেন ২০০৯ সালে উড়িষ্যার বিজেডি দলের হয়ে, ওই বছরই ব্রহ্মপুর লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ নির্বাচন হন তিনি। পরবর্তী ক্ষেত্রে ২০১৪ সালেও তিনি দ্বিতীয়বারের জন্য সাংসদ হন কিন্তু বিশেষ কারণে বিজেডি সুপ্রিমো নবীন পত্তনায়েক ২০১৯ এ লোকসভার টিকিট দিতে অস্বীকার করেন এবং রাজনীতি থেকে তাকে নিবৃত্ত করেন । এ কথা বলা যেতেই পারে যেখান থেকে সিদ্ধান্ত মহাপাত্র রাজনীতিক চালচিত্র কে তুতু may may করেছিলেন বর্তমানে কিছুটা অভাবনীয়ভাবেই রচনা ব্যানার্জি ২০২৪ এ তৃণমূল কংগ্রেসের হুগলি জেলার পদপ্রার্থী হয়ে রাজনীতিতে প্রবেশ করে নেট দুনিয়ায় শোরগোল তুলে দিয়েছেন। এক্ষেত্রে বলা যায় রাজনৈতিক প্রচারে বিজেপি পদপ্রার্থী যথেষ্ট পরিচিত হলেও নেট দুনিয়ায় রচনা ব্যানার্জীর বলা গরুর দুধসহ শিল্পাঞ্চলে কালো ধোয়া জাতীয় আল টপকা মন্তব্য রাজনৈতিক সচেতন মানুষজনের কাছে আলোচনার বিষয় হয়ে আছে। এখন দেখার -সময়ের সাথে সাথে হুগলি লোকসভা নির্বাচনের ঠিক আগে আগে নিজেকে রচনা ব্যানার্জি কতখানি ভারতীয় সাংসদ পদপ্রার্থী হিসেবে জনসাধারণের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তোলেন।

অনলাইন NEWS সারথি