আর জি কর: অভয়া’র বিচার চেয়ে রাজ্যের আন্দোলন অব্যাহত । দিল্লিতে সিবিআই এর শুনানি পিছিয়ে গেল! সাধারণ মানুষ আশা নিরাশায় দোদুল্যমান!!

 আর জি কর: অভয়া’র বিচার চেয়ে রাজ্যের আন্দোলন অব্যাহত । দিল্লিতে সিবিআই এর শুনানি পিছিয়ে গেল! সাধারণ মানুষ আশা নিরাশায় দোদুল্যমান!!

সারথি সংবাদ প্রতিনিধি :

৯ আগস্ট আর জি কর এ ঘটনার রাত, তারপর থেকে অবিরত চলছে আন্দোলন , এমনকি ভাঙচুর। অভয়ার বিচার পেতে আন্দোলন শুধু কলকাতা নয়, জেলা, মহকুমাসহ পাড়ায় পাড়ায় মহিলারা বেরিয়ে পড়েছে উচ্চস্বরে প্রতিবাদ জানাতে । “উই ওয়ান্ট জাস্টিস” — স্লোগানে মুখরিত রাজ্য তথা দেশ ছাড়িয়ে প্রবাসেও! কিন্তু এখনো পর্যন্ত তথ্য বা প্রমাণ ঘটনার প্রেক্ষিতে সিবিআই জানাতে পারেনি। উন্মুখ চিত্তে নারী মন সঠিক বিচার হোক এই দাবিতে কিন্তু জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এর ছাত্রছাত্রীরাও নানান স্লোগানে এবং প্রতিবাদে মুখর হয়ে নির্যাতিতার বিচার চেয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে। বিক্ষোভে সামিল হয়েছে অভিভাবক এবং শিক্ষক শিক্ষিকারাও। ঘটনার পাশবিকতায় সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে এমনকি প্রবীন নাগরিকরাও “নির্যাতিতার বিচার চাই” লেখা ধরে বাড়ির বাইরে এসে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। ধিক্কার মিছিল প্রতিটি ক্ষেত্রবিশেষে অবিরত হয়ে চলেছে । আর জি কর এর এই ঘটনা সমাজ তোলপাড় হলেও ধর্ষণ ও মৃত্যুর আসল কারণ এখনো জানা যায়নি। তাৎক্ষণিক ধর্ষণ নাকি পরিকল্পিত খুন? উত্তর পেতে সাধারণ মানুষের সাথে সাথে সিবিআই নিরন্তর তদন্ত জারি রেখেছেন। জুনিয়ার ডাক্তারদের একটা অংশ আন্দোলন থেকে সরে দাড়াতে চাইলেও অন্য বৃহত্তর অংশ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে। সাধারণ মানুষের বক্তব্য– এমন প্রতিবাদ বহুকাল দেখেনি বাঙালি, নির্যাতিতা তরুনীর খুন ও ধর্ষণের পর ২৭ দিন অতিক্রান্ত হলেও তদন্তের গতিপথ আমজনতার কাছে পরিষ্কার নয়,চিকিৎসক তরুণীর বিচার চেয়ে গত রবিবার বিকেল থেকেই মহা মিছিলে পা মেলান বহু মহিলারা । কলেজস্ট্রিট থেকে থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত বিভিন্ন স্লোগানে মুখরিত হয়ে ধর্মতলায় এসে, সেখানে তারা অবস্থান বিক্ষোভ করতে থাকেন । সিদ্ধান্ত নেন রাত দখলের। রবিবারের রাতের ধর্নায় বসেন অভিনেত্রী দেবলীনা,স্বস্তিকা ,সোহিনীরা। বিভিন্ন বক্তব্য, গানের সুর এবং নাচের মাধ্যমে তাদের প্রতিবাদ জারি রেখে যখন সোচ্চার হতে থাকে সেই সময় হঠাৎই বিক্ষোভের মাঝে ঢুকে পড়ে এক যুবক , গায়ের জামার রং বিশেষ এক রাজনৈতিক দলের রঙের মত। উপস্থিত থাকা লোকজন তাকে ধরে মারতে চাইলেও পুলিশ প্রিজন ভ্যানে তুলে নিয়ে যায়! আকস্মিক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা তিলোত্তমা র সাফ বক্তব্য- পুলিশসহ শিক্ষা,স্বাস্থ্য, পরিবহন সব বিভাগে ঘটনার কথা জানিয়েছি কিন্তু আগন্তুক কেন ঘটনাস্থলে এসে হাজির হলো বা অন্য কোন কারো প্ররোচনায় বা অন্য কোন উদ্দেশ্যে ওই যুবক এসেছিল কিনা সেটা দেখতেও বলেছি! আন্দোলনকারীদের জবাব-আমাদের কোনোভাবেই ভয় দেখিয়ে আন্দোলন থেকে নিবৃত্ত করতে পারবে না,আমরা দেখবো ৫ই সেপ্টেম্বর সিবিআই সুপ্রিম কোর্টে কি তথ্য জমা দিচ্ছেন, সেটা জানার পরেই আমাদের আন্দোলনের গতি প্রকৃতি ঠিক হবে এবং প্রয়োজনে আন্দোলনের ধার আগামীতে আরো তীব্র হবে।

কিন্তু বাস্তবিকভাবে , প্রধান বিচারপতির অনুপস্থিতি জনিত কারণে ৫ই সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্টে শুনানি হয়নি, কিন্তু শুনানি না হলেও আন্দোলন জুনিয়র ডাক্তারদের সমানে চলছে। গত মঙ্গলবার জাতীয় সংগীত গেয়ে লালবাজারে ঢুকে নগর পালের সঙ্গে দেখা করেন জুনিয়র চিকিৎসক দলের 22 জন প্রতিনিধি। তাদের মধ্যে ডাক্তারি পড়ুয়া অনিকেত মাহাতো বলেন– ৯ আগস্ট সেমিনার রুমে বহিরাগতদের ভিড়ে তথ্য প্রমান লোপাটের চেষ্টা সহ ১০ আগস্ট পুলিশের মারধর , ১২ ই আগস্ট সেমিনার রুম সংলগ্ন জায়গায় সংস্কারের কাজ শুরু এবং ১৪ ই আগস্ট রাতে আর জি করে ভাঙচুরের ঘটনা সম্পর্কে তারা বিস্তারিত ভাবে জানিয়েছেন নগরপাল কে। এছাড়াও জুনিয়র ডাক্তারদের আবেদন ছিল বুধবার রাত নটা থেকে দশটা এক ঘন্টা মানববন্ধন, বাড়ির লাইট বন্ধ করেও প্রতিবাদ জানানোর আবেদন জানানো হয়। উল্লেখ্য, এই আহবানে রাজ্যব্যাপী সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদ লক্ষ্য করা যায়। যা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।।

সারথি NEWS অনলাইন