বিবেকানন্দ জাগো! বিবেকানন্দ আবার আসো!
বিবেকানন্দ জাগো!, বিবেকানন্দ আবার আসো!
(হাহাকার সমাজের সাধারণ সময়োচিত কলম )
সত্যেন্দ্রনাথ পাইন
“অনেক দূরে যাও যে চলি
কিছু কথা না বলি
অনেক আশা বলার ভাষা
দিয়েছি জলাঞ্জলি।”
সেরকম বিবেকানন্দ সম্বন্ধে বলতে বা লিখতে বসে এটাই আমার মনে হচ্ছে। বিবেকানন্দ ছিলেন বলেই মা সারদা কে আমরা মাতৃজ্ঞানে পুজো করি।
বিবেকানন্দ ছিলেন বলেই ঠাকুর রামকৃষ্ণের সম্বন্ধে এতখানি মূল্য নিরূপণ সহজ হয়েছে। অথচ সে হেন বিবেকানন্দ কত না দ্বিচারিতার শিকার! পিতা মারা যাবার পরেই জ্ঞাতিদের কূটকৌশলে তাঁকে বাস্তুচ্যুত হতে হয়। জ্ঞাতিরা বলেন তাঁর কোনো কিছু নেই। তাই সেটির বিরুদ্ধে লড়তে কল্পতরু শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংস দেবের কাছে ভিক্ষা প্রার্থী হয়ে টাকা চাইতে গিয়েছিলেন। ঠাকুরের পরামর্শে তিনি মা কালীর কাছে প্রার্থনা করে আমাকে জ্ঞান দাও, ভক্তি দাও, বিবেক বৈরাগ্য দাও বলেছেন। টাকা চাইতে পারেননি। একবার নয় বারবার তিনবার ঐ একই প্রার্থনা করে আজ বিশ্বসভায় স্বামী বিবেকানন্দ হিসেবে পূজিত।
তিনি বিশ্ব ধর্ম মহাসম্মেলনে যোগ দিতে কীভাবে সম্ভব হয়েছিল তা বোধকরি অনেকেরই জানা নেই। তিনি ওখানে ভারতীয় সনাতন ধর্মের আদিমূল ব্যাখ্যায় দর্শন বেদান্ত প্রভৃতির উল্লেখ করে বলেন — মানুষ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে আগে মানুষ হতে হবে। তাই” জীবে প্রেম করে যেই জন সেই জন সেবিছে ঈশ্বর” বলতে পেরেছেন অনায়াসে। তাঁর প্রকৃতির প্রয়োগবিধিতে এবং ভাষা চর্চায় দেখেছি অগাধ পান্ডিত্য। স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ পর্যন্ত বলেছেন — ভারতকে চিনতে জানতে হলে বিবেকানন্দকে আগে জানতে হবে। তাঁর সরল গদ্য রচনা তৎকালীন পাঠকের মন জয় করেছিল।।
কাঁদতে, হাসতে সাধারণ কথা বলতেও যা যা দরকার সবই তাঁর সৃষ্টি। তিনি শুধু সন্ন্যাসী স্বামীজিই নন একেবারেই আনুগত্য প্রকাশ করে সংসারের হাল কী হবে তার বিশদ আলোচনা করে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেননি। বরং শিক্ষিত হতে সাহায্য করেছেন। তিনিই প্রমাণ করেছেন না জাগিলে ভারত ললনা এ ভারত বুঝি জাগেনা জাগেনা। তিনিই মার্গারেট আলভাকে এদেশে আনিয়ে সিস্টার নিবেদিতা হতে সাহায্য করেছেন এবং মা সারদার অনুমতি ক্রমে দীক্ষিত করেছেন ।
তৎকালীন সময়ে প্লেগ রোগের পাদুর্ভাবে যখন সমগ্র ভারত শোকবিহ্বল তখন তিনি নিজ হাতে নিবেদিতা কে পাশে নিয়ে সেবা শুশ্রূষা করেছেন।। সমগ্র বিশ্ব যা দেখে স্তম্ভিত ও হতচকিত হয়েছিল।
