প্রতিটি রাজনৈতিক দলই নির্বাচনী fund এর আতিশায্য! ভোটের পরে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির আশঙ্কা ছিলই- এখন তা বাস্তবায়িত

 প্রতিটি রাজনৈতিক দলই নির্বাচনী fund এর আতিশায্য! ভোটের পরে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির আশঙ্কা ছিলই- এখন তা বাস্তবায়িত

লেখক : বটুকৃষ্ণ হালদার

১৪০ কোটির দেশে বেকারত্ব একটি সামাজিক ব্যাধি। একজন মানুষ যখন তার কর্ম খুঁজে না পায় তখন তাকে যে পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে দিন কাটাতে হয়, সেটা উপলব্ধি করার মত মন বোধহয় আমাদের কারো নেই।করোনা প্রকোপে যেমন বেড়েছে মৃত্যুর সংখ্যা, তেমনি বিশ্বেজুড়ে কর্মচ্যুত হয়েছে বহু মানুষ।এই সমস্যা আরো তিন গুণ বেড়ে গেছে সেই আশঙ্কা সত্যি করে ভারতের অর্থনৈতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিএমআই ই জানায় গত  ৩ রা মে লক ডাউন শেষ হওয়া সপ্তাহে ভারতের বেকারত্বের হার ২৭.১০ শতাংশ। লকডাউন শুরুর পরে এটাই সর্বোচ্চ রেকর্ড। লকডাউন শুরুর আগে ভারতে বেকারত্বের হার ছিল ৪.১ শতাংশ। কিন্তু ২০২২ এর এপ্রিল মাসে সেই বেকারত্বের হার দাঁড়ায় ২৩.৫২ শতাংশ। সি এম আইইয়ের তথ্যানুসারে এপ্রিল মাসে ভারতের ৯ কোটি ৩০ লাখ দিনমজুর ও ক্ষুদ্র ব্যবসার কর্মী,বিভিন্ন উদ্যোগের আরও ১ কোটি ৮২ লাখ কর্মী ও বেতনভুক্ত কর্মীদের ১ কোটি ৭৮ লাখ কাজ হারিয়েছে। যে দেশে প্রায় ৯০ শতাংশ কর্মী বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্ম করে সেখানে প্রায় তিন মাস আর্থিক কর্মকাণ্ড কার্যত বন্ধ থাকার ফলে কাজ হারানো মানুষের সংখ্যা বাড়বে সেটাই স্বাভাবিক। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের কাছে কর্ম হারানোর ছবিটা খুবই ভয়ঙ্কর।আন্তর্জাতিক শ্রম দপ্তর ও এডিবির তথ্যানুসারে তরুণ প্রজন্ম কাজ হারিয়েছে প্রায় ৪০ লাখেরও বেশি। কর্ম হারিয়েছে অভিবাসী শ্রমিকরা, ঠিকা শ্রমিক থেকে শুরু করে, হোটেলের কর্মী,ডেলিভারি বয়রা।আরো খারাপ অবস্থা হয় সমাজের ফুটপাতে বসবাস করা মানুষজন ও ভিখারিদের।বাংলা বাদে ৬ টি রাজ্যে ১১৬ জেলায় যেখানে ২৫ হাজারের বেশি শ্রমিক প্রতিটি জেলায় ফিরে গেছে তাদের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার ৫০ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প বরাদ্দ দিয়েছিল। কিন্তু সেই অর্থ দিয়ে এই সমস্যা কি মেটানো সম্ভব? শুধু করোনা নয়,যোগ্য সঙ্গ দিয়েছ বিভিন্ন ধরণের প্রাকৃতিক প্রতিকূল সমস্যা। এতে নষ্ট হয়েছে ঘরবাড়ি থেকে শুরু করে গাছপালা এমনকি শস্য।আর তাতেই শোচনীয় হয়ে পড়ে কৃষকরা।

নির্বাচনী প্রচারকে কেন্দ্র করে কোটি কোটি টাকা অপচয় করা হলো কিন্তু প্রশ্ন হল জনগণের টাকা এইভাবে অপচয় কেন করা হলো? কিন্তু জিজ্ঞেস করবে কে? মোদ্দা কোথায় বিড়ালের গলায় ঘণ্টাকে বাঁধবে?ঘন্টা বাঁধ তে হবে জনগণকে। কোন প্রার্থী নিজের পকেটের টাকা খরচ করে নির্বাচনী প্রচারের নাচন কোদোন করেনি।সাধারণ জনগণের টাকায় নিজেদের রাজনৈতিক দলের প্রচার করেছেন। যে টাকা নির্বাচনী প্রচারে খরচ হয়েছে তার পিছনে রয়েছে নির্বাচনী বন্ড। অর্থাৎ ভোটের পরেই নিরীহ জনগণের গলায় সাঁড়াশি আক্রমণ করার নকশা তৈরি হয়ে গেছে। নির্বাচনী বন্ডের নাম করে দেশের নামিদামি বহু  কোম্পানিগুলো কোটি কোটি টাকা উৎকোচ দিয়েছে।আর সেই টাকা তুলবে নিজেদের কোম্পানির দ্রব্য সামগ্রীর মুল্য বৃদ্ধি করে। এরফলে শুধুমাত্র নিত্যনৈমিত্তিক জিনিসপত্র দামে নয়, তাতে সামিল হয়েছে জীবন দায়ী ঔষধ। ইতিমধ্যেই প্রায় ৮০০ টি জীবন দায়ী ঔষধের মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে। ডাক্তার আর ঔষধের সঙ্গে সাধারণ জনগণের সম্পর্ক কেমন তা আমরা সবাই জানি। দেশের এমন বহু নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবার আছে যারা ঔষধ ছাড়া এক পথ চলতে পারে না। অথচ আপনি যদি প্রতিমাসে পাঁচ হাজার টাকার ঔষধ কেনেন, সেই ঔষধ এর মূল্য ন্যূনতম দেড় থেকে ২০০০ টাকা হওয়া উচিত। আর বাকি টাকা কিন্তু জনগণ নির্বাচনী বন্ডের খেসারত হিসাবে পার্টির চাঁদা দিতে হচ্ছে। কিভাবে তা একটু জেনে নেওয়া দরকার ইলেক্টরাল বন্ড নিয়ে হৈচৈ পড়ে গেছে সমগ্র দেশে। বহু নামিদামি কোম্পানি নির্বাচনী বন্ডের নামে কোটি কোটি টাকা উৎকোচ দান করেছে। তাদের মধ্যে একটি হল ডক্টর রেড্ডি। স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার তালিকা অনুযায়ী এই ঔষধ প্রস্তুত কারী সংস্থাটি নির্বাচনী বন্ডের নামে দিয়েছে ৮৪ কোটি টাকা। তিনি কোন স্বার্থে দিয়েছেন টাকাটা? এই কোম্পানির প্রস্তুতকারক যে ঔষধটি আমাদের রাজ্যে ব্যবহৃত হয় তার নাম র‍্যাজো_ডি। কম্পোজিশন র‍্যাবি  প্রাজল,+ ডাম্পি রিডন।গ্যাস, বদহজম,বমি বমি ভাব ইত্যাদি সহ ঔষধ সাধারণ নিম্নবিত্ত থেকে শুরু করে প্রত্যেকের ঘরে থাকে। এই ঔষধটির আগে দাম ছিল ১২৭ টাকা পাতা। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি হয়ে তা হয়েছে ৩০৮ টাকা। এই হল নির্বাচনী বন্ডের সুফল নাকি কুফল তা জনগণ ঠিক করবে।

নির্বাচন হল সাধারণ নিরীহ জনগণের পকেট কাটার অন্যতম মাধ্যম সে বিষয়টা কিন্তু পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে ধীরে ধীরে।বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এইভাবে নিজেদের মতো করে স্বপ্ন দেখাচ্ছে। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে শুধুমাত্র রাজনৈতিক দলগুলোর মাথা দের। নিরীহ নিম্ন মধ্যবিত্ত খেটে খাওয়া মুটে মজদুরদের কথা কেউ ভাবে না।নোট বন্দির সময় আমরা দেখেছিলাম সবাইকে একসঙ্গে লাইনে দাঁড়াতে আর এই মুহূর্তে নির্বাচনী শেষ হওয়ার পরেই দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির জন্য লড়াইতে নামতে হবে তা বলা বাহুল্য। নির্বাচনী বন্দের নামে বহু নামিদামি কোম্পানি গুলো রাজনৈতিক দলের ফান্ডে কোটি কোটি টাকা দিয়ে নিজেদের আখের গোছানোর রাস্তা পরিষ্কার করে নিল। একদিকে নামিদামি বহু কোম্পানি আর অন্যদিকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল উভয়ের সাঁড়াশি চাপে সাধারণ জনগণের জীবনযাত্রা আরও বিপর্যস্ত হবে তা বোঝাই যাচ্ছে।

সারথি NEWS অনলাইন