স্বাধীনতার এতগুলি বছর পার– দেশীয় শিক্ষার অবনতি না উন্নতি?
সত্যেন্দ্রনাথ পাইন :
স্বাধীনতার সাতাত্তর বছরে আমরা ভারতীয়রা কী সত্যিই স্বাধীনতা পেয়েছি? এ নিয়ে অবশ্য অনেক মতামতের উল্লেখ পাই। স্বাধীনতা আমাদের নাকি স্বোপার্জিত নয়। এটা ইংরেজদের দয়া প্রদান!
আমরা আমাদের সাহিত্যের রথ যখন বড় হতে দেখি তখনি বুঝি আমরা স্বাধীন নই। কত মহান ব্যক্তি সেসময় লুকিয়ে নিজের জীবন বাজি রেখে নানান পদ্ধতি আহরণ করে ইংরেজদের বিরুদ্ধে সংগঠিত হয়েছিলেন। আমরা স্বাধীন হলাম ১৯৪৭ এর ১৫ আগষ্ট।
সেই সূক্ষ্মতার অস্তিত্বে বিশ্বাসী ছিলেন না অনেক ভারতীয়রাই। কেননা, যুদ্ধের কালে অনেক অত্যাচার সইতে হয়েছিল বহু স্বাধীনতা কামী মানুষ দের। কেউ হয়েছেন দেশত্যাগী, কেউবা আন্দামানে বন্দী হয়ে কাটিয়েছেন নিজের জীবন।।
হিংসাশ্রয়ী ইংরেজরা নানানভাবে অত্যাচার চালিয়ে গেছেন আমাদের ভূতপূর্ব স্বাধীনতা আন্দোলনের নায়ক নায়িকাদের প্রতি বিদ্বেষবশত। ভয়ে নয় শুধু ভারতের নানান সামগ্রী লুঠ করে তাদের বিরুদ্ধে আমরা যাতে সংগঠিত হতে না পারি সে ইচ্ছে মনে রেখে। ।
নীলকর অত্যাচার তার একটা অধ্যায় মাত্র।বহু চাষী অত্যাচার সইতে না পেরে আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছিলেন, আবার অনেকেই ইংরেজদের বশ্যতা স্বীকার করে নিতেও বাধ্য হয়েছিলেন ।
সে “সবই এখন ইতিহাস। কেউ ফাঁসির মঞ্চে, কেউ বা দীপান্তরে গিয়ে ভারত মাতাকে সুদীর্ঘকাল পরাধীন না দেখতে পাবার বাসনায় প্রাণপণে চেষ্টা চালিয়ে গেছেন আমৃত্যু। আমাদের বাংলা দেশের সুজলা সুফলা শস্য উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। আমরা নিঃস্ব হয়ে মুখথুবড়ে পড়েছিলাম। আমাদের সামনে মন্বন্তর দেখতে হয়েছে। অনেক বেশি মানুষ না খেতে পেয়ে মারা গেছেন। ইংরেজদের কোনো হেলদোল ছিল না। কেননা, তারা লুঠেরা। লুঠ করে ভারতীয় সম্পদ আহরণ করে কুক্ষিগত করাই ছিল মহান অভিপ্রায়। যার মধ্যে তাজমহল থেকে দামি কোহিনূর হীরক জাজ্বল্যমান উদাহরণ নয় কি?

এখন আগস্ট মাস, তাই আগস্ট আন্দোলনের কথা বিশেষ ভাবে প্রতিভাত হচ্ছে। আমাদের সহজাত প্রবৃত্তি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হবার বাসনা পূর্ণতা পায়নি।
আমরা নিজেরাই নিজেদের খাদ্য বস্তুর মতো ছিলাম তাদের ই অনুগ্রহে বা বদান্যতায়। তাই এই স্বাধীনতা আমাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে দেয়নি , কয়েক জন ভারতীয় নিজের প্রতি অস্বাভাবিক অসহ্যকর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ইংরেজদের বিরুদ্ধে স্বাধীনতার ব্যাটন হাতে তুলে নিলেও পক্ষান্তরে পাকিস্তান সৃষ্টি হয়েছে। চিরদিনের জন্য আমাদের বাংলাকে ও পাঞ্জাবকে দুভাগে বিভক্ত করে পাকিস্তান সৃষ্টি করেছে। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ পর্যন্ত এটা মোটেও ঠিক হয়নি বলে মত দিয়েছেন ।
আমাদের স্বাধীনতা তাই সে অর্থে স্বাধীন হতে পারেনি। কমনওয়েল্থ গেমসের মতো প্রচুর পরিমাণে প্রতি শ্রুতি রেখে আমাদের স্বাধীনতা দিয়ে চলে গেছেন — যেটাতে মহম্মদ জিন্না বা জহরলাল নেহরু দুজনেরই নাম সমোচ্চারিত। ওঁনারা কেউই তখন ইংরেজদের অভিসন্ধি আঁচ করতে পারেননি । ধূর্ত ইংরেজরা আমাদের বল বুদ্ধি কে দুভাগে ভাগ বাটোয়ারা করে চিরদিনের জন্য আমাদের বাংলাকে তথা ভারতকে পরাস্ত করতে চেয়েছে বারেবারে।
আমার মতে নেহরু, মহাত্মা গান্ধী বা মহম্মদ জিন্না র উচিত ছিল আর কিছু টা ধৈর্য ধরার।। তাই এই স্বাধীনতা আমাদের কাঙ্ক্ষিত নয়। আমরা বাধ্যতামূলক ভাবে মেনে নিতে বাধ্য হয়েছি। যা নেতাজির আজাদ বাহিনী মোটেও চায়নি।
এই অবস্থায় শিক্ষা যে এখনো টিকে আছে এটাই ভালো। তাই এ শিক্ষা প্রবেশ করেনি আমাদের হৃদয়ে বা জঠরে, মননে। আমরা কেউ ই শিক্ষিত হতে পারিনি। যে শিক্ষা নিয়ে নেতাজি, বা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর এবং আরও বিশিষ্ট মানুষ শিক্ষিত এখনকার সংস্কৃতি বা শিক্ষা যেন সেগুলো নিয়ে চলতে পারছে না। তারা কাগজে কলমে শিক্ষিত হচ্ছে বটে, কিন্তু প্রকৃত অর্থে শিক্ষিত হচ্ছে না। তাদের বিদ্যা পুঁথির পাতায় সীমাবদ্ধ। কেননা কেউই মানুষ হতে পারছে না।
আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোর দিকে নজর দিলেই রবীঠাকুরের তোতা কাহিনী গল্প মনে পড়ে বৈকি। অসংখ্য বিদ্যালয় বা ইউনিভার্সিটি হচ্ছে, বড় বড় তাবোড় তাবোড় বিল্ডিং হচ্ছে। পড়াশোনা হচ্ছে না। আজকাল খুব কম বড় বিজ্ঞানী বা বড় ডাক্তার হচ্ছেন, যারা কিনা দেশের মুখ উজ্জ্বল ও গর্ব করছে। আমাদের শিক্ষা এখন শুধুই স্মৃতি আর পুঁথিগত হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিক্ষা এখন mis- education এর পাল্লায় লাফাচ্ছে, দৌড়চ্ছে। মা লক্ষ্মী, মা সরস্বতী যেন দিশেহারা হয়ে খড়কুটো র মতো ভেসে বেড়াচ্ছে অকুল সমুদ্রে। এর কারণ অবশ্যই আমাদের রাজনৈতিক ভাবনা। স্যার Disracter এর মতে– politics is the last resert of scroundrels। আমরা তাই শিক্ষা নিয়ে গর্বিত হতে পারছি না। স্বামীজীর মতে এখনকার শিক্ষা যেন chastity, purity, motherhood and Brahmacharis of character থেকে বহুদূরে বাসা বেঁধেছে।
শিক্ষা শেখায় উপযুক্ত কর্তব্য বোধ। রাজ্য– অভিষেকের প্রাক মুহূর্তে রাম তাঁর পিতার সত্য রক্ষায় ১৪ বছর বনবাসী হয়ে কর্তব্য পালন করে দেখিয়েছেন ভারতীয় হিন্দু ধর্মের মূল স্তম্ভ।।
সকল মানুষের প্রতি মমত্ববোধ ও মানবিক মূল্যবোধ তৈরি করাই হল প্রকৃত শিক্ষা।
আমিত্ব ও অহংকার মুক্ত হোওয়া।
প্রতিশ্রুতি পালনে দৃঢ় হয়ে সঙ্গবদ্ধ থাকা।
ষড়রিপু কে যথাযথ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারা এবং সুপথে চালিত করা।
Education মানে শুধু ডিগ্রি নয় । শিক্ষা হলো mannerisms and culture.
সুপ্রভাত, শুভদিন, শুভ রাত্রি ধন্যবাদ ।।
সারথি NEWS অনলাইন
