বোটানিক্যাল গার্ডেন by সত্যেন্দ্র নাথ পাইন

 বোটানিক্যাল গার্ডেন by সত্যেন্দ্র নাথ পাইন

বোটানিক্যাল গার্ডেন
সত্যেন্দ্র নাথ পাইন

আমার প্রণাম গ্রহণ করো, হে বোটানিক্যাল গার্ডেন
আমার অস্তিত্বহীন উপলব্ধির চরম মুহুর্তে ।

তুমি বীরভোগ্যা, তুমি আদি সনাতনী
তোমার জন্য প্রতিটা বাঙালি আজ গর্বিত।
মিশ্রিত তুমি জয়তোরণ নিয়ে পরিচয়ের অতলে।
যদিও মানুষ আজও অমলিন আকাঙ্ক্ষায় বার্থ
তোমার সৃষ্টির রহস্য উন্মোচনে।
আদিতে কোথাও কেউ জানে না তোমার
জন্মবৃতান্ত। তবুও তুমি অনন্য সকলের মাঝে
তোমার হৃদয়ে লালন করে চলেছো আজও ভারতীয়
সভ্যতার ইতিহাসে সর্বাধিক প্রিয়তমা হয়ে।
বটের মূলে নদীর কূলে তোমার দূরন্ত প্রতাপ
সর্বজন বিদিত। ফুলে ফুলে সেজে উঠেছে
গোটা চত্বর। যেন প্রাণের বিজয় বার্তা সেগুলো।
তুমি , এতো গুলো বিশাল ঝড়ের দাপটেও ভেঙে পড়োনি কোনোদিন কোনো সময়।
ত্রুটি হীন সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা হয়েছে ক্ষমাহীন
ঈর্ষায়। তোমার বিনাশ যদি হয় এরপরেও
‌ কালের বিধানে কোনোদিন
সে হবে মস্ত বড় ভুল এক ।

তোমার আদিতে দোলে দানবের হাহাকার
যেটা নিয়ে দুঃস্বপ্নের বেড়াজালে
‌ ‌মূঢ় আমরা কুঁড়ে ঘরে
খুঁজি
চাঁদের জোছনা ।
অথচ তোমার প্রতিটা রোমকূপে আছে
আচার্য জগদীশচন্দ্র বসুর সৃষ্টির দ্যোতনা
যা দেখে বিদেশিরা করে ঈর্ষা, বিরহমিলনের আলুথালু বেশ ছড়িয়ে দিয়েছে
আদিগন্ত বিস্তৃত শান্তির
‌‌বারতা যখন।
যিনিই তোমার সৃষ্টিকর্তা হোন না কেন তাঁর কলাকৌশলে আমি বা আমরা জর্জরিত নই
বরং শিহরিত, আনন্দিত। মোরা ধন্য।
একাধিপত্বে নেই কোন স্বীকৃতি যদিও!
তোমার প্রতিটা ঝুরি যেন বিশ্বমাঝে এক একটা দেশ।
তোমার স্বভাবের বিশেষত্বে তুমি কখনও
কালনাগিনীর বিষ প্রয়োগ ক’রে
বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করোনি।
অথচ দেখেছি
এক এক দেশের অতৃপ্ত আত্মা আতপ্ত
হৃদয়ে হয়ে আছে মহানায়কের মতো।
কখনও মহানায়িকা হয়ে হয়েছে
বিশ্বদেবতার যজ্ঞাগ্নি।
সৌরজগতের বাইরে যতই করেছি
তোমার সন্ধান
সে বছর গোনার বাইরে থেকে
দূরে সরিয়েছে দিকচক্রবালের অবশেষ।।

আবার তোমার দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখি স্নিগ্ধ হাওয়া,
শীতল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠায়।
মদের ফেনা উপছে পড়ছে নিত্যনবীন ছন্দে গানে।

অনাদি বললো তুমি এসেছিলে
কোনো এক রহস্যে
স্তুতির বিহ্বলতায়
নীরব ঝংকারে।

তুমি স্থিতি, তুমি বনভূমি উজাড় করা
এক মোহময়ী হাস্যরসের
আকুতি।
নেশায় তুমি প্রাণবন্যা রাগিনী স্বরূপা
তোমার শিল্প আজও
পৃথিবীর মাঝে আর এক
নতুন আশ্চর্য আবিষ্কার নবম।
আশ্চর্য, তুমি আমার সাথে
বান্ধবীর মতোই করে চলো খেলা
নিত্যদিন ,
তোমার বনগন্ধের দোলায়িত সংকেতের
মিলনের গান শুনি সর্বদা ।।

তুমি ভারতের মানচিত্রে পশ্চিমবঙ্গের ছোট্ট এক
জেলা–হাওড়ার লজ্জা নয়
মূখ্য অঙ্গীকার।
হাওড়া শিবপুরের এক ছোট আস্তানায়
তোমার জন্ম –
আমাকে করেছে উদ্বেলিত
উচ্ছ্বসিত। আমি ক্ষুদ্র এক প্রাণী
তোমাকে করি বন্দনা
তোমার সৃষ্টির জন্য।
পুরস্কার ঘোষিত হয়েছে—-
কেউ তোমার জন্মটা জানালে।
আদৌ কি কেউ পারবে না
এই জন্মের রহস্য উন্মোচন করতে! ?

এ যেন সেই অসুর দলনী মা দুর্গার
আবরণ উন্মোচন করা —–
সম্ভব নয় জেনেও আমরা
হয়ে আছি নীরব কেন ?
কত খুন খারাপি ধর্ষণ ডাকাতিরই তো
হদিশ হচ্ছে। এটা তবে কেন
অচ্ছ্যুৎ হয়ে আছে আজও?
হে সমাজের উদ্গাতা
তুমি এখনও ঘুমাতে যাচ্ছো
কোন অপরাধ বোধে!
ভূতত্ত্ব বিদগণ আবিষ্কার করুন
বোটানিক্যাল গার্ডেন কবে
এবং কে করেছিলেন প্রতিষ্ঠা!
আমি আনন্দিত হব, ধন্য হব
সৃষ্টির বেদী মূলে তখনই ।

ওখানেই রয়েছে আরও কত
নাম না জানা গাছের অস্তিত্বের সৌরভ নিয়ে
যেগুলো থেকে সবাই জেনেছি
তাদের কত না গুণাবলী মানব শরীরে।।

কত না চাতাল রয়েছে ওখানে
মানবের বিশ্রামের প্রয়োজনে ।
যেখানে
কেউ করে খেলা, কেউবা
অবহেলা ক’রে নিত্য নতুন প্রেমের জন্মে নিয়েছে
আস্বাদন ।
তুমি তবুও আজও অমলিন শহীদ।
তোমার জন্য কতটুকু আর
আমাদের যৌবন জ্বালা
পোহায় দিবানিশি!

আমাদের বাঙালি–যৌবন প্রতিবাদ করলেই
্কেমন ঝলসে ওঠে
কিন্তু এরবেলায় আমরা নিশ্চুপ কেন!

মানব সভ্যতার ইতিহাসে সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং রিয়ালিটি তো বোটানিক্যাল গার্ডেন । তবে আমরা আজও নীরব
নিশ্চুপ কেন?
হে বিধাতা, তুমি কবে আসবে এ ধরায়
ক্রমাগত নড়তে থাকা যন্ত্রনায় দগ্ধ হয়ে!?
আমাদের গায়ে লেগেছে প্রশাসনিক রাজভবন নবান্ন।
তা’হলে এর বেলায় কেন আমরা
যত্নশীল নই!

আমরা বাঙালি জাতির জনক হিসেবে যাকেই বেছে নিই না কেন
তিনিই একমাত্র সন্তান তো নন। তবে
আমাদের বাঙালি যৌবন কেন
এখনও
হয়ে যায় ভুলুন্ঠিত
এই বাংলার মাটিতে ?
উত্তরের অপেক্ষায় রইলাম আমি
তোমা পানে চেয়ে।

আমার বিবেক আজ কোনপথে?
আমি কি চেতনা সমৃদ্ধ
নাকি
অবচেতনে আছি ঘুম ঘোরে?
আমি কি সত্য নাকি মিথ্যার
গোচরে থেকেই
অর্বাচীন মোস্তফা!
বোটানিক্যাল গার্ডেন সত্যই তো
বিবেকের কাছে
চেতনা- সমৃদ্ধ এক
পলেস্তারা আঁটা
দেয়াল তো নয়,
আসমান থেকে খসে পড়া
এক নক্ষত্রও নয়;
মানব সমাজের সভ্য দেশে
এক উদাসীন
হতচ্ছাড়া কৌপিনধারী
কিংবা একটা
সাধু বেশে অন্ধ ফকির তো
নয় ই।

গ্রীষ্মের খরতাপে অতিষ্ট হয়ে গেছে
মানুষ, পশুপাখি সকলেই যখন
তুমি বিলিয়েছো অকাতরে অকৃপনতায়
সুশীতল ছায়া
তাদের ।

আবার ঘণ বর্ষার দিনে বিচিত্র
খেলাঘরে যখন সকলেই
ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন প্রেমিকদের সাথে
প্রেমিকার মতো
তুমি সময়কে বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে
দিয়েছো অসামান্য অবদান।

হেমন্তের শিশিরস্নাত সন্ধ্যায় নয়তো ভোরে
মানুষ যখন খারাপ কাজ করে
যায় অনন্ত বিশ্রামের প্রয়োজনে
তুমি আমার সাথে যোগাযোগ করতে
নিজস্ব প্রতিনিধি হয়ে
আমাকে জানাও আমন্ত্রণ।।

শরতে যবে শারদাকাশে
মা দুর্গার আগমনবার্তা
ধ্বনিত হয়
পর্যটকদের কাছে তুমি হোও লোভনীয়
মানুষ কাজ থেকে বিরত থাকার
আরাম পেয়েছি ভেবে
বিদ্রুপ লাঞ্ছনা কে করে
জলাঞ্জলি।।

আবার প্রচন্ড শীতে কাঁপছে যখন কোনো
অধিকার রক্ষায় মামলা
থেকে বর্ণিত এক
শুভেচ্ছা বিনিময়
তখনও
তুমি আমার সাথে
করো যোগাযোগ
এক অন্তহীন ভালবাসায়।।

স্বামী স্ত্রীর মতই এককালে ঘোরাঘুরি করে
এখন যেন বৃদ্ধা
হয়েছো,
এখন চাও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের দাবিতে
মানববন্ধন,;
আমরা পৃথিবীর সবচেয়ে মিথ্যুক মানব
পতাকা উড়িয়ে তখনও
করি বিশ্রী আনন্দপ্রকাশ।

হে বোটানিক্যাল গার্ডেন
তুমি হতে চাও সর্বদা
জঞ্জাল থেকে দূষণমুক্ত পরিবেশ ।
আমরা কি পারবো দিতে
সেই পরিবেশ তোমায়,!

তুমি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও
অধ্যাপক নও।
তবুও তুমি জ্ঞান প্রদান করে
আমাদের ম্যাচুরিটি
দান করো।

হে বনরাজি, হে বটবৃক্ষ
তোমাকে জানাই
প্রণাম।