ভারত-পাক যুদ্ধের উত্তেজনা স্তিমিত হলেও এখনো ব্যাপক চর্চায় দেশবাসী!

 ভারত-পাক যুদ্ধের উত্তেজনা স্তিমিত হলেও এখনো ব্যাপক চর্চায় দেশবাসী!

বিশেষ সংবাদ প্রতিনিধি :

ভারতের বৈসরণ উপত্যকার নারকীয় ২৮ তাণ্ডবের বদলা বা প্রত্যাঘাতের লক্ষ্য নিয়ে পাকিস্তানের উপর যে গত সপ্তাহে আক্রমণ হয়েছিল তা নিয়ে দেশের নানান প্রান্তে নানান মন্তব্য শোনা গিয়েছে। বিশেষ করে বামেরা তো মিছিল সহযোগে ভারতের এই ধরনের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন। তাদের বলতে শোনা গেছে উপত্যকায় পাকিস্তান আক্রমণ করেছে তার প্রমাণ আছে? নানান মিশ্র প্রতিক্রিয়ার মধ্যে দেশের বর্ষীয়ান ভূ কৌশল এক্সপার্ট শ্রী ব্রহ্ম চেল্লানি বলেন- ভারত যখন কৌশলগতভাবে সুবিধাজনক অবস্থানে ছিল সেই মুহূর্তে বিপরীত সিদ্ধান্তে অবিচল থাকলো। জয়ের মুখে থেকেও যেন হার স্বীকার করলো। অন্যদিকে প্রধান বিরোধী দল দীর্ঘ সময় ধরে দেশ চালানো জাতীয় কংগ্রেসের প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তথা অর্থমন্ত্রী পি. চিদাম্বরম এর সুচিন্তিত মন্তব্য- প্রধানমন্ত্রী একটি বৃহত্তম সম্ভাব্য যুদ্ধের গতিপ্রকৃতি আন্দাজ করতে পেরেই সীমিত লক্ষ্য মাত্রায় পাকিস্তানের উপর আঘাত আনতে সচেষ্ট হয়েছিলেন। যা বুদ্ধিমত্তার পরিচয়। প্রাক্তন মন্ত্রী বলেন- পাকিস্তান ও pok মিলিয়ে মোট ৯টি ঘাঁটিকে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রায় ভারত আক্রমণ করে গুঁড়িয়ে দিয়েছে , যা অত্যন্ত সময়োচিত ছিল। তিনি বলেন- পাকিস্তান এবং pok তে কিছু জঙ্গি নেতা মারা গেলেও জঙ্গি সংগঠনগুলি কিন্তু এখনো বহাল রয়েছে। কাজেই বিপদ আগামীতেও ভালোভাবেই আছে। তার সতর্কবার্তা- পাকিস্তানে উদ্বুদ্ধ হওয়া বহু যুবক এখনো আছে তারা প্রশিক্ষণ নিয়ে কাশ্মীরে আঘাত আনতে এখনো তৎপর! তবে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে সংযত প্রত্যাঘাত এবারের জন্য যথার্থ ছিল বলেই মন্তব্য করেন। অন্যদিকে কংগ্রেসের কারিশম্যাটিক বাগ্মী নেতা শশী থারুর বলেন- আমরা কংগ্রেসীরা ইন্দিরা কংগ্রেসের সাথে মোদি জামানা তুলনা করলেও আমি বলছি ১৯৭১ এবং ২০২৫ এর পরিপ্রেক্ষিত কিন্তু এক নয়। শ্রী শশীর মন্তব্য -আমরা এমন একটা জায়গায় গিয়ে এখন পৌঁছেছি যে যুদ্ধের আবহাওয়া চলতে থাকলে পরবর্তীতে সেটা হাতের বাইরে চলে যাবে! মানুষ শান্তি চায় , যুদ্ধ নয়। জঙ্গিদের একটা শিক্ষা দেওয়া দরকার ছিল সেটা তারা নিশ্চয়ই পেয়েছে। যখন যেটা ধারাবাহিকভাবে পদক্ষেপ নেয়ার দরকার তখন সেটা নিতেই হবে– । উপত্যকা নিয়ে শশী আরো বলেন- উপত্যকায় হামলার জন্য যারা সরাসরি দায়ী তাদেরকে ধরতে সরকার নিশ্চিতভাবে পদক্ষেপ করবে তবে তা রাতারাতি সম্ভব নয়, কয়েক মাস সময় তো লাগবেই। দেশের বিভিন্ন রাজ্যে সম্প্রতি ভারত – পাক যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে নানান চর্চা অহরহ হয়েই চলেছে। থামবে কি যুদ্ধ যুদ্ধ চর্চিত আবহ? নাকি ভোটের লক্ষ্যে নয়া মন্দির নির্মাণ ও দেশপ্রেমের চর্চা জারি থাকবে আগামী দিনগুলিতেও !