দিল্লি-কলকাতা রুটের অবসান কি ঘটাতে চাইছেন তৃণমূল সাংসদ দীপক অধিকারী?
দিল্লি-কলকাতা রুটের অবসান কি ঘটাতে চাইছেন তৃণমূল সাংসদ দীপক অধিকারী?
নিখিল পাল
কালীঘাটে খোদ মুখ্যমন্ত্রী মাননীয়া মমতা ব্যানার্জির উচ্চ প্রশংসায় ভরিয়ে দেওয়া নাম “দেব,” কিন্তু তা সত্ত্বেও হঠাৎ কেন পদক্ষেপ করল বা করতে হলো ঘাটাল রবীন্দ্র শতবার্ষিক মহাবিদ্যালয়ের পরিচালক কমিটির সভাপতি পদ থেকে এবং বীরসিংহ উন্নয়ন পর্ষদের ভাইস চেয়ারম্যান পদ থেকে এছাড়াও ঘাটাল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান থেকে পদত্যাগ! অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ রাজনৈতিক মহলে জোড়চর্চা ঠিক কি কারণে দেব মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠকে যোগ দেওয়ার ঠিক পরে পরেই দলীয় গুরুত্বপূর্ণ পদগুলি থেকে খুব দ্রুত ইস্তফা দিলেন? তাহলে কি ধরে নেয়া যায় মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী দীপক অধিকারীর মন বুঝতে ব্যর্থ হয়েছেন! তাহলে কি ধরে নেওয়া যায় দীপক অধিকারী উপর ভিতরে ভিতরে এজেন্সির দ্বারা চাপ বাড়ছে, নাকি ব্যস্ততার জন্য তিনি ইস্তফা দিলেন! কিন্তু এখনো পর্যন্ত যেটা বোঝা যাচ্ছে- দেব শেষ এক বছর তার নিজের ঘাটাল কেন্দ্রের সাংসদ হিসেবে খুব বেশি সময় দেননি অথবা দিতে চাননি নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখবেন বলেই !কিন্তু তৃণমূল কংগ্রেস তাকে দূরে সরিয়ে দিতে চাইছে না বরং তাঁর মত প্রিয় অভিনেতাকে দলে আরো বেশি কাজে লাগানোর জন্য দল মত প্রকাশ করেছে । অন্যদিকে শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন- অপেক্ষা করুন সাংসদ পথ থেকেও ইস্তফা দেবেন দেব !বিজেপি বিধায়ক ও বলেছেন- নির্দিষ্ট অভিযোগে সাংসদকে এজেন্সি ডেকেছিল আর সেই ডাকাকে কেন্দ্র করে তিনি ভীত এবং তার জন্যই তিনি বিজেপির রোষ থেকে মুক্তি পেতে ইতিমধ্যেই বেশ কিছু পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে বুঝিয়ে দিতে চাইলেন আসন্ন লোকসভায় নির্বাচনে তিনি আর লড়তে চান না। ওয়াকিবহাল মহল মনে করছেন- এটাই তার প্রথম পদক্ষেপ নয়, হয়তো তিনি শাসক দল থেকে নিজেকে গুটিয়েও নিতে পারেন, দল পাল্টাবেন কিনা বা কেন্দ্রের শাসকদল বিজেপিতে যোগ দেবেন কি না তা এখনো পরিষ্কার নয় তবে তার এই পদক্ষেপ গুলি কিন্তু বিশেষভাবে প্রতিপন্ন করছে যে তিনি শাসক দল থেকে নিবৃত্ত হতে চাইছেন ! যদিও তৃণমূল দল তার পাশে আছে , প্রয়োজনের দেবের হয়ে আন্দোলন করবেএবং দল বলে চলেছে- দেব সবার প্রিয় এখন দেখার তিনি কেন তড়িঘড়ি সরে গেলেন! তার কারণ তিনি কি বলেছেন- তিনি অভিনয়টাই মন দিয়ে করতে চান, এটাও তিনি স্পষ্ট করেননি। এত বছর সিনেমা প্রযোজনা অভিনয় এবং রাজনীতি করার পর তার হঠাৎ এই ইস্তফা বাংলার রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক শোরগোল তুলে দিয়েছে এ কথা নিঃসন্দেহে বলা যেতেই পারে , কেন্দ্রও স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিমায় অন্য রাজ্যগুলিতেও যেরকম তাদের দপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ সংস্থাগুলোকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন রাজ্যের মডাস অপারেশন চালিয়ে রাজ্যগুলিকে কাবু বা দখল করে নিতে উদগ্রীব হয়েছে সেরকম ভাবেই কি বাংলার উল্লেখযোগ্য তারকা তথা রাজনৈতিক নেতা -এমপি দীপক অধিকারীর উপর ক্রমান্বয়ে চাপ বাড়ানোর জন্যই এই সিদ্ধান্তগুলো নিতে দুবার ভাবতে দেরি করলেন না, আগামী দিনেই কি ঠিক হতে চলেছে লোকসভা নির্বাচনের আগে আগেই দেবের রাজনৈতিক জীবন এবং অভিনয় জীবনের সমন্বয় বা ফাটল কতটা ধরবে, ফাটল কতটা চওড়া হয় তা দেখাই এখন কৌতূহল প্রিয় মানুষের কাছে বড় বিষয়। দীপক অধিকারী ওরফে দেব তাঁকে নিয়ে সমস্ত কিছু জল্পনার অবসান ঘটবে কিন্তু আসন্ন লোকসভা নির্বাচনের আগেই। যদিও এর আগে এবং শেষ পর্যায়ে তার প্রযোজনা সংস্থায় বে আইনি টাকা লগ্নি ছাড়াও কাটমানি তত্ত্ব’র উদ্ভব ঘটেছে কেন তার উত্তর একমাত্র দিতে পারবে স্বয়ং দীপক অধিকারী ওরফে দেব
