বহরমপুর লোকসভা নির্বাচনে বরাবরের মতোই অধীর ম্যাজিক !! — নাকি এবার অপেক্ষার পালা বদল?

 বহরমপুর লোকসভা নির্বাচনে বরাবরের মতোই অধীর ম্যাজিক !! — নাকি এবার  অপেক্ষার পালা বদল?

সংবাদ সারথি, অনলাইন বিশেষ প্রতিনিধি

লোকসভা নির্বাচন ২৪ চলাকালীন পশ্চিমবাংলার একটি কৌতুহলী কেন্দ্র- বহরমপুর লোকসভা কেন্দ্র, সেখানে টানা পাঁচবারের সাংসদ অধীর রঞ্জন চৌধুরী এবারও কি ২০২৪ এর লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেসের সম্ভ্রম জাগানো প্রার্থীদের প্রতিহত করে বিজয়ী হতে পারবে ?এটাই এখন লাখ টাকার প্রশ্ন !
১৯৯৯ সাল থেকে টানা পাঁচবার অধীর রঞ্জন চৌধুরী বিজয় হাসিল করেছে বহরমপুর মানুষদের আশীর্বাদে। কিন্তু এবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি লোকসভা নির্বাচনী প্রস্তুতি পর্বে জানিয়েছিলেন- আমি দুটি আসন বাংলা থেকে জাতীয় কংগ্রেসকে ছেড়ে দিচ্ছি, কিন্তু অধীর চৌধুরীর জন্যই সেটা সম্ভব হয়নি। কার্যত মুখ্যমন্ত্রীর ডাকে সাড়া দেননি তিনি। আর ঠিক তার পরে পরেই তৃণমূল কংগ্রেস আদা জল খেয়ে নেমেছে অধীরকে হারানোর জন্য, আর সেই লক্ষ্যেই জাতীয় ক্রিকেট তারকা ইউসুফ পাঠানকে গুজরাট থেকে আনা হয়েছে অধীর মোকাবিলায় ।
যদিও ইউসুফ পাঠান ভারতীয় ক্রিকেটের উল্লেখযোগ্য তারকা কিন্তু রাজনীতিতে কোনরকম পূর্ব অভিজ্ঞতা নেই। সেই লক্ষ্যে তিনি কি বহরমপুরের জাতীয় কংগ্রেস ওজনদার পদপ্রার্থীকে হারাতে সফল হবেন? নাকি বহরমপুরের মানুষের কাছে ইউসুফ শুধুই আকর্ষণীয় ক্রিকেটার হিসেবে রয়ে যাবেন? উত্তর জানা যাবে ভোটের ফলাফলের দিন। এখন দেখার বহরমপুর এর অধীর মোকাবিলা করার জন্য কেন তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্য থেকে একজন রাজনৈতিক মুখকে টিকিট দিলেন না অধীর মোকাবিলায়? তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব জানে বহরমপুরের অধীর শুধু রাজ্যে নয় ভারতবর্ষে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অভিজ্ঞ ও চর্চিত নাম, বিতর্কিতও।
বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ নেতা জাতীয় কংগ্রেসের কাছে। লোকসভায় শাসক কে তীব্র নিশানা করে তার বক্তৃতা রাজনৈতিক মহলকে ভাবিয়েছে, সারা রাজ্যে জাতীয় কংগ্রেসের মাটি যেখানে ক্ষয়িষ্ণু হয়েছে সেখানে অধীরের নেতৃত্বে বাংলার রাজনৈতিক মানচিত্রে জাতীয় কংগ্রেস সামান্য হলেও অক্সিজেন নিতে পেরেছে তাঁর জন্যেই । অধীর রঞ্জন চৌধুরীর সমস্যা- তিনি ভোট ভিক্ষা করেন না ,ভোট ভিক্ষা করছেনও না। প্রচারে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন- দীর্ঘ সময় আমি অধীর, আপনাদের জন্যই। কাজ করে গেছি, এখন আমি এসেছি আপনাদের দরজায় ভোট পাওয়ার লক্ষ্যেই, বরাবরের মতোই আপনার ভালোবাসা পাওয়ার জন্য । অধীর বাবু বলছেন-সোনিয়া গান্ধীর পাশের সিটে বসে বিরোধীদের আক্রমণ করি আপনাদের দেওয়া ভোটে সাংসদ থাকার জন্যই।
উল্লেখ্য, বহরমপুর শহর থেকে আমাদের প্রতিনিধি জানাচ্ছেন-শহরের গোড়াবাজার ,নিমতলা এলাকায় জাতীয় কংগ্রেসের ব্যানারে অধীরের হাসিমুখ, নিচে লেখা- অধীর অপেক্ষায় বহরমপুর। ব্যানার দেখে বিরোধী দলের এক কর্মীর বক্রক্তি মন্তব্য – ‘অধীর অপেক্ষাই বটে!! পরিবর্তনের অপেক্ষার অবসান এবার হবেই হবে।’ এহেন একক কারিশমায় বিরোধী দলগুলির অন্যতম অপরিহার্য নেতা অধীরকে হারানোই তৃণমূল কংগ্রেসের এবার একমাত্র এজেন্ডা, প্রেস্টিজ ফাইটও — মুর্শিদাবাদ জেলা রাজনৈতিক মানচিত্রে এ কথা নিঃসন্দেহে বলা যায়। অন্যদিকে ক্রিকেটার তথা সংখ্যালঘু মানুষের প্রতিনিধি পদপ্রার্থী হিসেবে ইউসুফ পাঠান সাধারণ মানুষের কাছে কতখানি ভর্সা যোগ্য হয়ে উঠতে পারবেন ২৪ এর লোকসভা নির্বাচনে? ক্রীড়া জগতের নক্ষত্র ইউসুফ পাঠান কতখানি রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি করতে পারেন সেটাই এখন বিচার্য। মরিয়া ইউসুফ নিজে জিততে তার ভাই, অন্যতম জাতীয় ক্রিকেটার ইরফান পাঠান কেও বহরমপুরের প্রচারে নামিয়েছেন। এ ব্যাপারে ভাই ইরফান বলেছেন– দাদা জিতলে এখানে মানুষের জন্য কাজ করবে তাই আমি অবশ্যই আপনাদের জন্য এখানে আবার আসবো। যে উন্মাদনা ও ভালোবাসা মানুষের মধ্যে দেখছি সেটা ভোটের মাধ্যমে আপনারা প্রকাশ করলেই দাদার জয় অনিবার্য। যদিও গত লোকসভা নির্বাচনের পর বহরমপুরের বিধানসভা কেন্দ্রটি ২০২১ থেকে বিজেপির এবং সেখানে ভোটের শতকরা হিসেবে কংগ্রেসের স্থান তৃতীয়। তবুও যেহেতু লোকসভা নির্বাচন দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে তিনি এই এলাকার সাংসদ সেজন্য সাধারণ ভোটাররাও অধীর বাবুকে আবারো ভোট দিয়ে প. বাংলার রাজনৈতিক মানচিত্রে জাতীয় কংগ্রেস এর প্রাসঙ্গিকতা বজায় রাখতে সাহায্য করবে নাকি বহরমপুরের রাজনৈতিক ইতিহাস এর পাতায় অধীর বাবুর নাম ধীরে ধীরে মুছে যাবে তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে ৪ জুন পর্যন্ত।
তবে এক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য বহরমপুর লোকসভায় এবার বিজেপির প্রার্থী ডাক্তার নির্মল চন্দ্র সাহা, পেশায় ডাক্তার । যদিও তিনিও রাজনীতিতে অনভিজ্ঞ। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে তাদের পরিবার আরএসএসের কর্মকাণ্ডের সাথে যুক্ত এবং সেই নিরিখে বহরমপুরে তাদের বাড়িতে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতসহ শাখা সংগঠনের নেতৃত্বরা বরাবরই এসেছেন। পরিবারের এক সদস্য সক্রিয়ভাবে সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত। বহরমপুর শহরবাসীর কাছে স্বচ্ছ ভাবমূর্তির চিকিৎসক ও সমাজসেবক হিসেবে এবারের বিজেপির পদপ্রার্থী ডাক্তারবাবুও জেতার ব্যাপারে আশাবাদী। কাজেই বহরমপুর লোকসভায় এবার লড়াই ত্রিমুখী এবং জেতার ব্যাপারে প্রত্যেকেই মরিয়া।
দেখার এটাই— বরাবরের “অধীর” মিথ ভেঙ্গে এবার কি বিরোধীরা বহরমপুরে নতুন সাংসদ পেতে চলেছেন? নাকি বরাবরের মতোই এবারও অধীর রঞ্জন চৌধুরী তাঁর সাম্রাজ্য অটুট রেখে শাসকদলকে ম্রিয়মাণ করবে বহরমপুর লোকসভা নির্বাচন কেন্দ্রটির মধ্য দিয়ে– যা রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট চর্চার। ভোটের অংক-জল্পনা-কাটাকুটির নিরসন হবে ৪ ঠা জুন।

সারথি NEWS অনলাইন