দেশ জুড়ে মহা কুম্ভ মেলাকে ঘিরে পারদ চড়ছে….!! আমজনতা থেকে নেতা-মন্ত্রীদের বিরামহীন মন্তব্য… উদ্দীপনা…. শ্লেষ….!!

 দেশ জুড়ে মহা কুম্ভ মেলাকে ঘিরে পারদ চড়ছে….!! আমজনতা থেকে নেতা-মন্ত্রীদের বিরামহীন মন্তব্য… উদ্দীপনা…. শ্লেষ….!!

সুবিমল দাস :

১৪৪ বছর পরে হওয়া ‘মহাকুম্ভ’ নিয়ে নানান জল্পনা তর্ক-বিতর্ক উত্তরোত্তর জমজমাট ! পূণ্য অর্জনের জন্য ‘সাহি স্নান’ নিয়ে দেশজুড়ে প্রবল উৎসাহ উদ্দীপনা বেড়ে চলার সাথে সাথে পদপৃষ্ঠের মতো ঘটনাও ঘটেছে সর্ববৃহৎ এই ধর্মীয়মেলাকে কেন্দ্র করে। হাজার হাজার দেশবাসীর এখন প্রশ্ন – আজকের দিন পর্যন্ত ৬০ কোটির বেশি মানুষ যে কুম্ভে স্নান করে গেলেন সেই প্রয়াগরাজের সঙ্গমের জল কি আদৌ মানুষের স্নানের যোগ্য? কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের রিপোর্ট অনুযায়ী- প্রয়াগ রাজে গঙ্গা-যমুনা সঙ্গমের জলে অতিরিক্ত মাত্রায় মানুষ ও পশুর বর্জ্য জীবাণু মিলেছে। কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের এই রিপোর্ট জাতীয় পরিবেশ আদালতে বা গ্রীন ট্রাইব্যুনালে জমা পড়েছে, তাতে বলা হয়েছে প্রত্যেক ১০০ মিলি লিটার জলে ২ হাজার ৫০০ ইউনিট পর্যন্ত ওই জীবাণু থাকলে তার স্থানের যোগ্য, কিন্তু প্রয়াগ রাজ এর জলে এর থেকে বেশি মাত্রায় কোলিফরম এর জীবাণু পাওয়া গেছে। এক্সপার্টদের কথায় – ফুসফুস ,পেট এবং চামড়ায় বড় রকমের সংক্রমণ হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায় এ ক্ষেত্রে। কুম্ভ মেলার শেষ লগ্নে মহা ঐতিহাসিক এই মেলাকে নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে তর্কে সরগরম!

সমাজবাদী পার্টির নেত্রী জয়া ভাদুড়ি বলেছেন- জলে অতিরিক্ত পরিমাণে ফুল, বেলপাতা সহ আবর্জনা মেশায় জল স্নানেরও অযোগ্য হয়ে পড়ছে!! কিন্তু সমালোচনা উড়িয়ে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ বলেছেন -“দূষণের মাত্রা নিয়ন্ত্রণের মধ্যেই রয়েছে। পুজোর যেসব সামগ্রী জলে ছোড়া হচ্ছে সেই ফুল, বেলপাতা বিশেষ যন্ত্র সহযোগে দ্রুত উপরে তোলা হচ্ছে। তাঁর দাবি -১৪৪ বছর পরে কুম্ভ মেলার আয়োজনে সর্বমোট ৭০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। তার মধ্যে ১৭০০ কোটি টাকায় খরচ হচ্ছে জল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও দূষণ নিয়ন্ত্রণে। সুতরাং আমরা আছি মানুষের স্বার্থে কাজের জন্যই।” যদিও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মহা ঐতিহাসিক মহাকুম্ভ নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেছেন- “কুম্ভ মেলাকে আমি সম্মান করি, কুম্ভের কথা নাই বা বললাম ! এটা মহাকুম্ভ না মৃত্যু কুম্ভ?” মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলার বিরোধী দলের নেতা শুভেন্দু অধিকারীর তৎক্ষণাৎ সাবধানি প্রতিক্রিয়া- “মহাকুম্ভের অপমান, সইবে না হিন্দুস্তান!” এখন দেখার ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তে শেষ হওয়া ধর্মীয় উদ্দীপনা এবং পুণ্যভাগ ্য সমাপ্তি স্বাভাবিক এবং পরিকল্পনামাফিক হয় কিনা । তাৎপর্যপূর্ণভাবে স্নান সেরেই সবচেয়ে বেশি লোকসভা নির্বাচনে আসন পাওয়া ইউপি র সমাজবাদী পার্টি প্রধান অখিলেশ যাদব এর মন্তব্য-‘আমরাই ২০২৭ এ ক্ষমতায় ফিরব এবং বিশাল অর্ধ কুম্ভের আয়োজন করব’। সাথে সাথে কৌতুহলী একাংশেরও প্রশ্ন – মহা ঐতিহাসিক মহাকুম্ভ মেলা ২০২৫ কে কেন্দ্র করে উদ্ভূত ধর্মীয় উন্মাদনার মাহাত্ম্য বা রেশ কে দীর্ঘায়িত করে ২৭ এর উত্তর প্রদেশের বিধানসভা নির্বাচনে যোগী সরকার নাকি বিরোধীদল ?(অখিলের যাদব ) উত্তরপ্রদেশে ২০২৭ এর ক্ষমতায়নের প্রশ্নে কে বেশি লাভবান হতে পারে? –সেটাই এখন মেলাকে ঘিরে শতকোটির আমজনতার প্রশ্ন।।

সারথি  নিউজ অনলাইন