নাকানি চোবানি খাওয়ানো জিনাত কি এখন কলকাতা আলিপুর চিড়িয়াখানার অন্যতম উপাদান? নাকি দর্শকদের ইচ্ছা অধরাই থাকবে!
সুবিমল দাস :
অবশেষে বাঘিনী বন্দি। টানা বেশ কয়েকদিন জেলা বাসীদের তটস্ত রেখে জিনাত হার মানলো বন কর্মীদের কাছে। জিনাত বয়সে কম হলেও কম খেল দেখায়নি। বাঁকুড়া, মেদিনীপুর এবং পুরুলিয়া জেলার অধিবাসীদের শুধুই নয় উড়িষ্যার সিমলিপালের জঙ্গল থেকে আসা দলছুট জিনাত ৯ দিন ধরে একটার পর একটা জেলা অতিক্রম করে ঘোল খাইয়ে ছেড়েছে বন কর্মীদেরও। শুধু তাই নয় গ্রামবাসীদেরও যথেষ্ট সন্ত্রস্ত করে রেখেছিল জিনাত। রেডিওকলার বাঘিনীর গলায় বাঁধা থাকায় এর সাহায্যে তার গতিবিধি আঁচ করা গেলেও ঘন কুয়াশা এবং গভীর জঙ্গলে দ্রুত স্থান বদল করায় স্যাটেলাইটে তাকে মাঝেমধ্যেই ঠাউর করতে বেগ পেতে হচ্ছিল ব্যাঘ্র বিশারদদের! যার ফলে মরিয়া প. বঙ্গ সরকারের বনদপ্তর উড়িষ্যা সরকারের বনদপ্তরের সঙ্গে তাল মিলিয়েই জিনাতকে দ্রুত বন্দি করতে আধা জল খেয়ে নেমেছিল, বিভিন্ন পদ্ধতিতে অর্থাৎ খাবারের লোভ (ছাগল, মোষ)এর টোপ দিয়ে জিনাতকে খাঁচায় বন্দি করতে ব্যর্থ হওয়ার পরই তাকে স্যাটেলাইট উপগ্রহের মধ্যে দিয়ে তার অবস্থান চিহ্নিত করে জিনাতের অবস্থানকে জালের (net)সাহায্যে ঘিরে রেখে অবস্থানের পরিধি ছোট করে ঘুমপাড়ানি গুলি চালানোতে পারদর্শী বনকর্মীরা প্রয়োজন মত ডোজ কমিয়ে-বাড়িয়ে গাছের আড়াল থেকে ঘুম পাড়ানি গুলি ছুঁড়ে ক্ষীপ্র বাঘিনী কে নিস্তেজ করতে সফল হন। প্রথম দুবার গুলির প্রয়োগ পদ্ধতির কার্যকারিতা ফলপ্রসু না হলেও সবশেষে বাঁকুড়ার জঙ্গলেই ঘুমপাড়ানি গুলি ছুঁড়ে জিনাতকে কুপোকাত করে দ্রুত কলকাতার আলিপুর চিড়িয়াখানায় আনা হয়,সেখানেই একটা বিশেষ এনক্লোজারে তাকে রাখা হয়েছে। টানা ন’দিন ধরে ছুটে বেড়ানো ক্লান্ত বাঘিনীর এখন প্রয়োজন পর্যাপ্ত খাওয়ার এবং চিকিৎসা। অভিজ্ঞ পশু চিকিৎসক ছাড়াও ওড়িশা থেকে আসা পারদর্শী বন কর্মীরা উপস্থিত থেকে জিনাতের উপর নজর রাখছেন তার মর্জি এবং শরীর স্বাস্থ্যের দিকে। দীর্ঘ কয়েকদিনের উৎকণ্ঠাকে প্রশমিত করে সুচারুভাবে কোন রকম প্রাণীর জীবনহানি না ঘটিয়ে দলছুট বাঘবন্দীকরণ প্রক্রিয়ায় যুক্ত সমস্ত বন কর্মীদের প্রতি পশ্চিমবাংলার মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি অভিনন্দন জানিয়েছেন। এখন দেখার– শীতের আমেজ এ আলিপুর চিড়িয়াখানায় যেখানে উৎসাহী পর্যটকদের থিকথিকে ভিড় সেখানে কি আদৌ বাড়তি আকর্ষণ হিসেবে নয়া উদ্দীপনা সৃষ্টিকারী জিনাতকে দেখা যাবে? নাকি জিনাত লোকচক্ষুর আড়ালে থেকেই আগামীতে তার নিজের ডেরা সিমলিপালের অভয়ারণ্যে ফিরে যাবে!
সারথি NEWS অনলাইন
