কী লিখব আর কীইবা বলবো / সত্যেন্দ্রনাথ পাইন
আমরা গরীব দেশের নাগরিক। মানে কোনোরকমে বেঁচে বর্তে আছি। আমাদের সংখ্যা নিতান্তই অবশ্যই কম নয়।
তবুও আমরা ভোট দিই, প্রার্থী নির্বাচিত করি। আমাদের স্বাধীনতার পর থেকে এপর্যন্ত যে সব নির্বাচন হয়েছে বা হচ্ছে সেগুলো একটিও যথাযথ নয় অন্তত আমার কাছে।।
আমি এই ব্যবস্থার একমুখী করন বা তার চেয়ে বেশি কিছু মূল্যবান উপদেশ দিতে অক্ষম বলেই ধারণা আমার। তাই আমার লেখনীর মাধ্যমে আমার সাথে আমাদের ছুটি ঘোষণা করা বড়ই বেমানান বৈকি।।
আমাদের ভোট বৈতরণী পার হওয়ার সময় হয়েছে। এখনও আমার লেখার সময় পর্যন্ত লোকসভার ভোট চলছে। কিন্তু মার্জিত বা সৌজন্য মূলক ভাষণ যেন একটা নতুন জিনিস পাওয়ার জন্য অশ্রাব্য এবং অন্যান্য কথামালা সাজানো নাটক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
একটা অসম প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে যেন!
কেন দেশে দুর্বৃত্তরা এতো বেসামাল! তার জন্য দায়ী কে বা কারা? কেন মূখ্যমন্ত্রীর বা প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে সুরঞ্জিত বা সুরুচি বাক্য ব্যবহৃত হবে না! তাতে কি ভোট বৈতরণী পার হওয়ার মোক্ষম সুযোগ নেই!
আমি তো আর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বা নেতাজী সুভাস নই। আমার লেখার মূল্য হয়তো কিছু লোকের কাছে যৎসামান্য। তবুও বলছি লেখনীর মাধ্যমে আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। আমরা স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় দেখেছি। নজরুল কেও কারাবাস করতে হয়েছে এই লেখার জাজ্জ্বল্যমানতা উল্লেখ করে।
তাহলে ভাষাজ্ঞান বা ভাষা চর্চা করতে হবে বৈকি সুরঞ্জিত বা সুরুচিকর ভাষণের মাধ্যমে।
“মুখ ঢেকে ছে বিজ্ঞাপনে”। আর আজ সব ঢেকেছে যেন অতিরঞ্জিত মিথ্যা এবং কুকথায়। যেটা মোটেও কাঙ্খিত নয়। আমরা সমগ্র পৃথিবীর একটা সুমহান আদর্শের ভিত্তিতে স্বামীজির বক্তৃতায় বিগলিত। তাহলে সে হেন দেশে কেন আমরা সব ভুলে “অপশব্দে”র ব্যবহারে সতর্ক হব না!
আমাদের দেশে শিক্ষিত বেকার যুবক যুবতীরা নানান ভাবে বঞ্চিত নিপীড়িত । তারা কী শিক্ষা লাভ করছে এতে!
তাই আয়োজন বৃথা ভাবি। আমার লেখার মূল্যায়ন হবে কবে এবং কীভাবে!? জাতীয় কংগ্রেসের ইস্তাহারে অনেক গালভরা বুলি আছে। সেগুলো রক্ষা পাবে কি?
একটা ফুলের তোড়া দিয়ে শুভেচ্ছা জানান হয় কোনো ব্যাক্তি কে। কিন্তু সেই ফুল মালার রচয়িতা কে জানতে চাই না। অর্থাৎ মালাকারকে বঞ্চিত হতে হয় এক্ষেত্রে । যেমন নেপথ্যে থেকে অভিনয় করেছেন যাঁরা তাঁরা বঞ্চিত হন সবসময়ই ।
বাগযুদ্ধ চলেছে এবং চলবেও। চলুক। আমরা বোকা লোকেরা ভোট দিতে গিয়ে তাথৈ তাথৈ নেচে ঘরে ফিরি আর বাবুরা বড় বড় মিথ্যা আশ্বাসনে ভুলিয়ে ধন্যবাদ জানাক। আমরা গদগদ হয়ে চর্বিত চর্বন করে আনন্দ পাই। আমাদের প্রতি দায়বদ্ধতার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তারা এসি ঘরে বসে ঠিক করুক কোনটা ঠিক বা বেঠিক।
আমাদের নির্বাচন কমিশন সচিবালয় সংশোধন করে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন পরিচালনা করবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু হয় না।
টি এন সেশন যেটি চালু করে গেছেন তার সাথে আমাদের সম্পর্ক যেন সাপে নেউলে।
তাই কিছু বলার বা লেখার অস্তিত্ব সত্যিই আছে কি!?”গনতন্ত্রের উৎসব” অনুষ্ঠিত হয়ে বোধোদয় হচ্ছে না মোটেও। তাই কীইবা দরকার এতো লেখালেখির!
মুখ ঢেকেছে অশ্রাব্য কথায় এবং কাজে। কীভাবে শুনবেন আর কীইবা লিখবো আমি!?
মুনি ঋষিদের মুখে শুনেছি বা জেনেছি মন যখন কাউকে স্পর্শ করে তখন শরীরের মধ্যে রোমাঞ্চ অনুভব হয়। তাহলে এখন কেন হয়না ! এবং পরে ফিরে এসে মোক্ষম সুযোগ সুবিধা ভোগের বস্তু পাইনা!
মনকে গলাতে চাই মহাদ্রাবক। সেই মহাদ্রাবকের কথায় বড্ডই বেমানান লাগছে। দেখা দেবে না , তবুও টানছো! শরীরের আগুন ঝলসে যাচ্ছে –চাইনা বলেও পার পাবার জো নেই।
এরা কথাও কবে না, আবার ছেড়ে ও দেবে না! তাই কী হবে এতো সময় অপচয়ের!
কী দরকার লেখা লেখির!
যে জীবন নদীর মতোই বয়ে চলে সে নদীর মতোই সার্থক, যখন তার চারদিকে শাখা প্রশাখা য় পরিব্যপ্ত হয় তখনই তার মহানত্ব । আবার যখন সাগরে মেশে তখন তার অভাবনীয় ভাবে বাদ্যের জগৎ, যৌবনের জগৎ সবকিছু ভেবেই একসুরে রঞ্জিত হয়।।
জগৎটাকে বিচার করা মহান নয়। স্থান পরিবর্তন প্রয়োজন।দাশুরায়ের পাঁচালী পড়ে যুবক যৌবন এবং প্রৌঢ়ের আলাদা আলাদা উপলব্ধি হয়। তেমনি এখনকার রাষ্ট্রনায়কের ভাষায় সভ্যতার নিদর্শন থাকবে না এখনই মেনে নেয়া যায় না মোটেও।
দেশ কালের অর্থ বুঝবো না তবুও বিশ্ব রচনা করে মহান বিজয় দিবসের উন্মত্ত প্রলাপ বকবো সেটা কখনোই মেনে নেয়া যায় না এটা তো “জন্মমৃত্যুর প্রবাহ মায়ামরীচিকা”র মতোই!!!
আমাদের দেশে শিক্ষিত বেকার যুবক যুবতীরা আর্য না অনার্যি তার মূল্যায়ন করা ঠিক নয় । আগে আগে দেখেছি লট হূন মোঘল প্রভৃতি অনার্য দের আগমনের সংগে সংযোগ স্থাপন করতে গিয়ে আমরা হারিয়েছি আমাদের যৌবন, আমাদের বিশেষত্ব। আমরা আর্য সুবর্ণ না অন্য কোনো জাতি তাতে বিভেদ করে লাভ নেই। আমরা সমগ্র পৃথিবীর সবচেয়ে একটা গনতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে চাই একটা বিশিষ্ট এবং বিশেষ সমাজ।
তাই লেখাটিও আমার দৃঢ়ভাবে পুরোনোকে ফেলে নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখাবে এই আশায় পরস্পর বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের হত্যা না করে অবিরোধ জাতি হিসেবে গড়ে তুলতে হবে এইটাই পাথেয় হয় উঠুক এইটুকুই প্রার্থনা সকলের কাছে।।
সারথি NEWS অনলাইন
