ভারতবর্ষের অন্যতম বৃহৎ গ্রুপ অফ কোম্পানিজ – এর মুনাফা অর্জনের সাথে সাথে সামাজিক দায়বদ্ধতা আজ কতখানি?

 ভারতবর্ষের অন্যতম বৃহৎ  গ্রুপ অফ কোম্পানিজ – এর মুনাফা অর্জনের সাথে সাথে সামাজিক দায়বদ্ধতা আজ কতখানি?

সারথি অনলাইন ডেস্ক :

ঝাড়গ্রাম জেলা এবং খড়্গপুরের মধ্যে দিয়ে যাওয়া ৬ নম্বর জাতীয় সড়কের পাশে রেশমি গ্রুপ অফ ইন্ডাস্ট্রির একাধিক কারখানা বহুদিন ধরেই গড়ে উঠেছে , তাকে কেন্দ্র করে নানা জল্পনা-কল্পনা । গ্রামবাসীদের বক্তব্য- নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে প্রান্তজুড়ে বেআইনি জমির রেকর্ড করা এবং তা স্থানীয়দের বিরুদ্ধে বলে সংবাদ প্রতিপন্ন হচ্ছে ।এছাড়াও কারখানার ভেতরে শ্রমিকরা যখন দুর্ঘটনার কবলে পড়েন বা মারা যান তখন তাদের ঠিকমতো সঠিক পুনর্বাসন না দিয়ে কাজ করতে বলা হয়। সম্প্রতি সাঁকরাইল এর সমীর দাস এবং বিহারের সূর্যপুরের রাহুল কুমারের মৃত্যু ঘিরে উত্তাল হয়ে ওঠে উড়িষ্যার মেটালার্জিক্যাল কারখানা, যা রেশমি গ্রুপ অফ ইন্ডাস্ট্রির দ্বারা পরিচালিত খরগোপুর থানার গোকুলপুরে অবস্থিত।।

 

এসব কে কেন্দ্র করে সম্প্রতি মেদিনীপুর লোকসভার পদপ্রার্থী তথা বিজেপি নেত্রী অগ্নিমিত্রা পাল শ্রমিক এবং এলাকাবাসীর আন্দোলনকে হাতিয়ার করে ৬ নম্বর জাতীয় সড়ক প্রায় দু’ঘণ্টা অবরোধ করে রাখেন। কারখানা কর্তৃপক্ষকে হুঁশিয়ারি দেন শ্রমিক স্বার্থে কারখানা কর্তৃপক্ষকে আরো বেশি মানবিক হতে হবে। আসানসোলের বর্তমান এমএলএ আরো বলেন -শ্রমিকের দাবি-দাওয়া মানা না হলে তিনি আবারও কারখানা অবরোধ করবেন বলে চরম সীমা ধার্য করেন।

অন্যদিকে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা সভাপতি সুজয় হাজরা এ ব্যাপারে এক রাশ ক্ষোভ নিয়ে বলেন-রেশমি দের কারখানার বেশ কিছু সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আমরাও, তবে তিনি বিজেপি নেত্রীর এই ধরনের মন্তব্য কে ” নাটক ” বলে কটাক্ষ করেন। সুজয় বাবু আরো বলেন- যে কারখানাকে নিয়ে নেত্রী আন্দোলনে নেমেছে সেই কারখানার মালিক কয়েক মাস আগে অযোধ্যায় রামলালা প্রতিষ্ঠানের দিন যোগী আদিত্যনাথ এর পাশে বসে ঘি ঢালতে দেখা গিয়েছে। শাসক দলের একাংশ বা পুলিশ কেউ যদি টাকার বিনিময়ে কারখানার অনৈতিক কাজকর্মকে উৎসাহ দেন এবং তা যদি একটাও প্রমাণ দেখাতে পারেন আমরা ব্যবস্থা নেবো।

বহু বছর ধরেই গ্রামবাসীদের একটাই কথা -কারখানা চলুক তার সাথে সাথে স্থানীয়দের নিয়োগের অগ্রাধিকারসহ বাইরের পরিযায়ী শ্রমিকদের সংখ্যায় কম নিতে হবে। এছাড়াও তাদের অন্যতম প্রধান দাবি: কারখানার চুল্লি থেকে নির্গত ধোঁয়াকে প্রতিহত করতে পর্যাপ্ত দূষণ নিয়ন্ত্রণে কর্তৃপক্ষের সর্বাপেক্ষা গুরুত্ব আরোপ দিয়ে কারখানা চালাতে হবে। ছোট থেকে বৃদ্ধ পর্যন্ত কারখানা সংলগ্ন কয়েক কিলোমিটার মানুষের অভিযোগ -সারা বছরই অতিরিক্ত ধোঁয়ায় আমাদের স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে। চাষাবাদ মার খাচ্ছে, রোগ জ্বালার চিন্তা বাড়ছে।

এখন দেখার আগামী দিনে কারখানা সবার জন্য উন্মুক্ত ও প্রয়োজনীয়তা আবশ্যক হলেও সমাজের জন্য কারখানা কর্তৃপক্ষ কি কি গঠনমূলক পদক্ষেপ নেন সেটা দেখাই এলাকাবাসীর একমাত্র কাজ বলেই বর্ষিয়ান এক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গ্রামবাসী নিজমত ব্যক্ত করেছেন।

সারথি NEWS অনলাইন