প্রিপেইড স্মার্ট মিটার কি বিপদের কারণ?
দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ৫০% চলে গেছে বেসরকারি সংস্কার হাতে, যদিও এখনো পর্যন্ত ভারতবর্ষের বেশিরভাগ রাজ্যেই স্ব স্ব রাজ্য পর্ষদ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় বিদ্যুৎ সংস্থাগুলি, কিন্তু স্মার্ট মিটার কি এ ব্যাপারটা প্রথমেই উপভোক্তাদের জানা দরকার।
এই মিটার হলে গ্রাহক অগ্রিম টাকা ভরে মিটারে ইলেকট্রিসিটি লোড করে সেটা ক্রেডিট করার মধ্য দিয়ে তারা ইচ্ছামত বা পরিমাণ মতো বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে পারবেন। এখন গ্রাহকদের বিদ্যুৎ ব্যবহার অনুযায়ী লোড ক্রেডিট থেকে বিল এমাউন্টে ডেবিট হয়ে যাবে। তাদের অর্থাৎ গ্রাহক দের যেটা করতে হবে প্রিপেইড স্মার্ট মিটার এই যন্ত্রটি গ্রাহকের কিনে নিতে হবে বা ইন্সটল করতে হবে। এবং সেই মিটারে অগ্রিম টাকা ভরে ইলেকট্রিসিটি লোড ক্রেডিট করতে হবে। কার্ড বা অনলাইনের মাধ্যমে মোবাইলের মতো রিচার্জ এখানেও করতে হবে। গ্রাহকের বিদ্যুৎ ব্যবহার অনুযায়ী লোড ক্রেডিট থেকে বিল এমাউন্টে ডেবিট হয়ে যাবে। গ্রাহকদের কাছে নোটিফিকেশন আসবে তাতে জানানো হবে কত লোড ব্যালেন্স ক্রেডিট আছে সেইমত প্রত্যেক মাসে টপ আপ চার্জ করাতে হবে।
প্রতি মাসে মিটারে আপনার বিদ্যুতের ব্যালেন্সের ক্রেডিট শেষ হয়ে গেলে নিজে থেকেই কিন্তু বিদ্যুৎ বাড়িতে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। মোবাইলের ক্ষেত্রে যেমন হয় আর কি। এখন আর কেউ এসে বিদ্যুৎ লাইন কাটতে আসবেনা আগের মত। যেহেতু বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে তাই প্রত্যেকবারই কিন্তু পুনরায় বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা দিয়ে নতুন বিদ্যুতের সংযোগ নিতে হবে
এখন গ্রাহকদের জানানো দরকার। স্মার্ট মিটার কিন্তু দু প্রকারের হয়- একটি প্রিপেইড স্মার্ট মিটার অন্যটি পোস্টপেইড স্মার্ট মিটার।
অন্যদিকে আসাম, জম্মু-কাশ্মীর, মধ্যপ্রদেশ, বিহার সহ আরো দুই একটি রাজ্য কিন্তু ইতিমধ্যেই প্রিপেইড মিটার চালু হয়ে গেছে। তারা কিন্তু নতুন স্মার্ট মিটারের সুবিধা গ্রহণ করতে অস্বীকার করছে। তাদের বক্তব্য: গ্রাহকরা অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিল মেটাতে বাধ্য হচ্ছেন। তারা আন্দোলন করছে, বিদ্যুৎ দপ্তরেও করছে। আপনার প্রিপেডের টাকা শেষ হয়ে গেলে বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে, কোন কর্মী আপনার বাড়িতে আসবেনা লাইন কাটতে। পোস্ট paid এর ক্ষেত্রে কিন্তু আপনি কত ইউনিট আগেই বিদ্যুতের জন্য খরচা করেছেন আর কত টাকা আপনাকে দিতে হবে তা আপনাকে কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দেবে। গোদের ওপর বিষফোঁড়ার মত কেন্দ্র সরকার বিদ্যুৎ অ্যাক্ট পরিবর্তন বা সংশোধন করে জানিয়ে দিয়েছে, দিনের বেলা সাধারণ হারে এবং সন্ধ্যাবেলা অতিরিক্ত হারে গ্রাহকদের ওপর চার্জ চাপানো হবে, সাধারণত আমরা সবাই সন্ধ্যেবেলাতেই বিদ্যুৎ পাখা আলো টিভি সহ সবকিছুই জ্বালিয়ে রাখি অর্থাৎ বিদ্যুৎ ইউনিট বেশি খরচ হয় সে ক্ষেত্রে এই ফতোয়া সাধারণ গ্রাহকদের মাথার উপর বিশাল চাপ বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে।। তাহলে কি সন্ধ্যা বেলায় ঘর অন্ধকার করে ফ্যান নিভিয়ে উপভোক্তারা বসে থাকবে? এই নিয়েও কিন্তু হচ্ছে ভারতবর্ষের বেশ কিছু জায়গায় আন্দোলন! এখন দেখা যাক এই আন্দোলন কতখানি ফলপ্রসু হয়? সরকারকে কতখানি চাপ দিয়ে সরকারি ফতোয়া থেকে বিরত রাখা যায়? এ ব্যাপারে কাশ্মীরিরা স্মার্টফোনের বিপদ অনুধাবন করেছে। তারা বলছেন আগে ৫০০ টাকা বিল আসতো এখন হাজার টাকা তেও কুলাচ্ছে না। এটা বিপদ না?
সবথেকে কঠিন অবস্থা সম্মুখীন হয়েছেন বিজেপি শাসিত আসামবাসী! তারা দফায় দফায় আন্দোলন করছে। তাদের বক্তব্য- তাদেরকে না জানিয়ে ডিজিটাল মিটারকে প্রিপেইড স্মার্ট মিটারে কনভার্ট করে দেয়া হয়েছে। মিটারের দাম তিন থেকে চারগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। অসমবাসীদের জিজ্ঞাসা কাদের স্বার্থে প্রিপেইড মিটার চালু করা হলো? তাদের বক্তব্য বিদ্যুৎ ব্যবস্থাকে বেসরকারিকরণের উদ্দেশ্যেই এই কাজ চলছে নাতো? বিহারেও স্মার্ট মিটারের বিপদজনক দিক নিয়ে সাধারণ মানুষ আন্দোলন করছে, তাদের বক্তব্য আগে এক হাজার টাকা মাসে বিল আসতো , এখন তিনগুণ আসছে। আমরা কোথায় যাব ? ভীত শঙ্কিত হয়ে তারা মাঝে মাঝেই সড়কে নেমেছে আন্দোলন করতে এবং হুমকি দিয়েছে এখনই স্মার্টফোনের বিপদ থেকে মুক্তি না দিলে আমরা বৃহত্তর আন্দোলনে যাব। তারা বলছেন এখন স্মার্ট মিটার হাঁটাও বিহারী বাঁচাও।
প্রসঙ্গে বলি -এখনো পর্যন্ত পশ্চিমবাংলায় এই বিপদ অর্থাৎ স্মার্ট মিটারের নতুন ব্যবস্থা চালু হয়নি যদিও প্রায় 40 লক্ষ প্রিপেইড স্মার্ট মিটার নিয়েছে ক্ষুদ্র শিল্পের ব্যবসায়ীরা, তাদের ব্যবসার প্রয়োজনে। আগামী দিনে বাংলা স্মার্ট মিটার এর প্রয়োজনীয়তা কতখানি তা সরকারের অত্যন্ত বিচক্ষণতার সাথে এবং এক্সপার্টদের দিয়ে সমীক্ষা করে তবেই স্মার্ট মিটারের নতুন ব্যবস্থা কার্যকরী করাই শ্রেয় বলে মনে করি, নচেৎ ভুক্তভোগী অন্য রাজ্য গুলোর মতই শোচনীয় অবস্থা হবে এ কথা বলাই বাহুল্য।।
