“আব কি বার, চারশো পার” এটা সাইকোলজিকাল ব্যাপার , বিরোধীদের উপর চাপ সৃষ্টির কৌশল : প্রশান্ত কিশোর
সারথি সংবাদ অনলাইন প্রতিনিধি
বিশেষ সংবাদদাতা
হ্যাঁ, প্রশান্ত কিশোর মাঝে কিছুদিন পর্দাসীন থাকলেও ২০২৪ এর ভারতবর্ষের লোকসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে তিনি তার মত পাটিগণিতে মনোনিবেশ করে ব্যক্ত করেছেন নির্বাচনের ফলাফল কি হতে পারে, সে ব্যাপারে। একসময়ের সতীর্থ বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমার তাঁর ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক বন্ধু বা পরামর্শদাতাই ছিলেন না, নিতিশ কুমারের দলের পদাধিকারিও ছিলেন। তাঁর ভরসার মূল জায়গা বলতে প্রশান্ত কিশোরকেই মানতেন, কিন্তু কালক্রমে প্রশান্ত কিশোর -নীতিশ কুমারের দল বদলু খেলায় এবং রাজনৈতিক চিন্তাধারার মধ্যে ফারাক তৈরি হওয়ায় দূরত্ব বজায় রাখেন। তিনি সম্প্রতি নির্বাচনের ব্যাপারে বলেন- শুধু নীতিশ নয় বিজেপিকে কিন্তু বড় মূল্য দিতে হবে। বিজেপি সব জেনে বুঝে এটা করছে। কারণ- বিজেপি সারা দেশময় জিততে চাইছে এবং তার একটাই রং হবে গৈরিক। সেক্ষেত্রে একটু এদিক ওদিক হলে ক্ষতি কি ! তিনি আরো বলেন- মোদির মত জনপ্রিয় নেতা দেশের মধ্যে কেউ নেই, এরকম একটা ধারণা প্রচলন করার চেষ্টা চলছে, এই ধরনের ভাবনা ও প্রচার ইন্দিরা গান্ধীও করেছিলেন বলে রাজনীতি জগতের ভোট কুশলী প্রশান্ত কিশোর এর অভিমত। যেখানে বিহারে একটা সময় বিজেপির অবস্থা খুবই খারাপ ছিল এমতাবস্থায় নিতিশ কুমার বিজেপির হাত ধরায় বিজেপি আগের চাইতে ২০২৪ এ ভালো ফলাফল করবে বলে পিকের অনুমান,তবে আসন কমবে বলে তার অভিমত। দেশে রাজনৈতিক আদর্শ বলে আর কিছু অবশিষ্ট থাকছে না বলেও ক্ষেদ প্রকাশ করেন পিকে। কিছুদিন আগে “ইন্ডিয়া টুডে”-(২৯ শে মার্চ ) কে এক সাক্ষাৎকারে তিনি একই কথার পুনরাবৃত্তি করে বলেন -এই যে আব কি বার , ৪০০ পার বলে স্লোগান চলছে। এটা একটা সাইকোলজিক্যাল ব্যাপার। ভারতবর্ষের সাধারণ ভোটারদের মধ্যে একটা ধারণা বা চাপ তৈরি করার কৌশল মাত্র। সম্প্রতি” নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস” কে PK বলেছেন- বিজেপি দশ থেকে কুড়ি শতাংশ আসন বৃদ্ধি করবে সেটা ঠিক কিন্তু একাই ৭০ থেকে ৮০টা আসন বৃদ্ধি করবে বলে মনে হয় না, সেই জন্যই ওই স্লোগানের সাইকোলজিক্যাল উপযোগিতা বজায় রাখতে দেশজুড়ে তাদের ক্যাপশনকে ছড়িয়ে দিতে চাইছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে ধরে নেওয়া হয়েছিল নতুন নতুন পেশার মানুষ যেখানে রাজনীতিতে যোগ দিচ্ছে, সেখানে রাজনৈতিক পালস বুঝতে পোড় খাওয়া প্রশান্ত কিশোর হয়তো এবার ২০২৪ এ লোকসভা নির্বাচনে নিজস্ব দল তৈরি করে রাজনীতির আঙিনায় প্রবেশ করে সাধারণ দেশবাসীর মনে কিছুটা আশার সঞ্চার করবেন। । কিন্তু তিনি তার টিমকে সঙ্গী করে ২০২৪ এর লোকসভা নির্বাচনের কাটাকুটির অংকে এবং তাঁর দলের আগাম ফলাফলে সন্তুষ্ট না হয়ে এবারও রাজনীতির মঞ্চ থেকে সক্রিয় অংশদানে বিরত থাকলেন বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের অভিমত। তবে PK – র রাজনীতিতে নামা নির্ভর করবে তার প্রেডিকশনের উপর, আগামীতে ভারতবর্ষের রাজনৈতিক ইতিহাসের ক্ষুরধার মস্তিষ্ক প্রশান্ত কিশোর আদৌ রাজনীতির batton ধরবেন কিনা তা নিয়ে চর্চা জারি থাকবে একথা বলা যেতেই পারে।
(online সারথি নিউজ)
