অবৈজ্ঞানিক উন্নয়ন ও অসচেতনতার ফলে দেশে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ভয়াবহতা বাড়ছে!-সচেতনতা আবশ্যক

 অবৈজ্ঞানিক উন্নয়ন ও অসচেতনতার ফলে দেশে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ভয়াবহতা বাড়ছে!-সচেতনতা আবশ্যক

সুব্রত কুন্ডু :

বাদাবন বাড়ছে!
উপকূলে তৈরি ঘুর্ণিঝড়ের প্রভাব স্তিমিত করার জন্য বাদাবনের জুড়ি নেই। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ভূমিধসে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে বা হয়ে চলেছে। পাঞ্জাব থেকে শুরু করে জম্মু-কাশ্মীরে কোথাও বন্যা তো কোথাও ভূমিক্ষয় এখন একটা চিন্তার বড়সড়ো বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আবার কোথাও মেঘ ভাঙ্গা বৃষ্টি তে সমূহ অঞ্চলের হঠাৎ করেই বিপর্যস্ত নেমে আসছে। এখন থেকে এ থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে সুচিন্তিত বন সৃজনের উপর জোর দেওয়া অত্যন্ত আবশ্যক। কিন্তু সরকারের উদাসীনতা এবং এক শ্রেণীর মানুষের ব্যবসায়িক লুটতরাজের জন্য দেশে আজকে প্রাকৃতিক বিপর্যয় ভয়াবহ আকার ধারণ করছে।
ইন্ডিয়া স্টেট অব ফরেস্ট রিপোর্ট বা আইএসএফআর অনুযায়ী দেশে বাদাবন বা ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল রয়েছে ৪৯৯১.৬৮ বর্গ কিলোমিটার জুড়ে। দেশের মোট ভৌগোলিক সীমার ০.১৫ শতাংশ হল এই অঞ্চল। আইএসএফআর ২০১৯-এর তুলনায় ২০২৩-এর রিপোর্টে, দেশে ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল ১৬.৬৮ বর্গ কিলোমিটার বেড়েছে বলে জানানো হয়েছে। ২০২৩-এর রিপোর্টে বলা হয়েছে, অন্ধ্রপ্রদেশ, গোয়া, কর্নাটক, কেরল, ওডিশা, পশ্চিমবঙ্গ, দমন ও দিউ এবং পণ্ডিচেরীতে বাদাবনের পরিমাণ বেড়েছে। অন্যান্য বনের মতই, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলেরও উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রয়েছে। তবে উপকূলে তৈরি ঘুর্ণিঝড়ের প্রভাব স্তিমিত করার জন্য বাদাবনের জুড়ি নেই।
২০২৩-২০২৪ অর্থবর্ষে, ম্যানগ্রোভ ইনিসিয়েটিভ ফর সোরলাইন হ্যাবিটার্স অ্যান্ড ট্যানজেবেল ইনকাম বা মিষ্টি নামে একটি প্রকল্প শুরু হয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল, প্রাকৃতিক পরিমণ্ডল এবং উপকূলবর্তী এলাকায় সুস্থায়িত্ব রক্ষায় ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল বৃদ্ধি করা। কেন্দ্রীয় সরকারের মতে, এই প্রকল্পের ইতিবাচক প্রভাব এর মধ্যেই পড়তে শুরু করেছে রাজ্যগুলিতে।
তবু বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ না মেনে জঙ্গল সাফ করে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প এবং একশ্রেণীর মানুষের অদূরদর্শিতার জন্যই প্রায়শই দেশের প্রাকৃতিক বিপর্যয় বিপর্যস্ত হতে দেখা যাচ্ছে। আগামী দিনে বিপদ থেকে মুক্তি পেতে সরকারের আরো পরিবেশমুখী প্রকল্প জনহিতে কার্যকরী গ্রহণ এর মধ্যে দিয়ে জনগণের আস্থা অর্জন করতে হবে, নচেৎ আগামীতে আরো ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয় অপেক্ষা করছে।