চাষ জমিতে হাতির হানা ঠেকাতে চাষীদের নয়া কৌশল— আশাব্যাঞ্জক ফল পাওয়া কি সম্ভব?
সারথি অনলাইন ডেস্ক :
পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার চাঁদরা অঞ্চলের হেতাসোল এলাকার শুকনাখালি জঙ্গলের সন্নিকটে বিস্তৃত জমিতে ধান চাষ করেন চাষীরা। কিন্তু বিপদ, হাতিদের তান্ডবে ফসল উৎপাদনে সমূহ ক্ষতির সম্ভাবনা! এ সমস্যা শুধু এ বছরের নয় বছরের পর বছর। চাষীদের রাতের ঘুম উড়ে যাবার জোগাড়! জমির পাশেই জঙ্গল আর জলাশয় অর্থাৎ হাতিদের বিচরণের মুক্তাঞ্চল! সন্ধ্যে নামতে না নামতেই হাতির দল ফসল খেতে আসরে নামে। সেই ক্ষতি থেকে মুক্তি পেতে চাষীরা নিজেরাই উপায় বাতলেছেন।
কিন্তু তা কি? তারা তাদের সাধের বা কষ্টের ধান জমি হাতিদের থেকে আগলে রাখতে নিজেরাই স্বত:প্রণোদিত হয়ে বাঁশের খুঁটি এবং জঙ্গলের গাছকে বেড়া হিসেবে ব্যবহৃত করছে কাঁটাতারের সাহায্যে। চাষীরা হাতিকে প্রতিহত করতে কাঁটাতারের সাহায্য নিতে সচেষ্ট হয়েছেন। কিন্তু প্রশ্ন? হাতিরা কি আদৌ কাঁটাতার এ বাধাপ্রাপ্ত হয়ে চাষ জমির উৎপাদিত ফসল দেখেও মুখ ঘুরিয়ে অন্যত্র চলে যাবে! নাকি চাষীদের হাতি নিবৃত্তের এই ভাবনা অমূলক বলে প্রমাণিত হবে।
এখন পর্যবেক্ষকদের প্রশ্ন, এভাবে কি চাষিরা বনদপ্তরের গাছ ও বল্লি কে বেড়া হিসাবে ব্যবহার করে চাষ জমি রক্ষা করতে কাঁটাতার দিতে পারে?
চাষ জমিতে হাতির হানা নিয়ে চাষীদের বক্তব্য- আমরা বিঘার পর বিঘা হাজার হাজার টাকা খরচ করে প্রত্যেক বছর চাষ করি কিন্তু ফল পাই না! এ ব্যাপারে বনদপ্তরের বক্তব্য- আমরা কোন মতেই হাতি ঠেকাতে বনদপ্তরের গাছ কাটার অনুমতি দেব না। যে জায়গায় কাঁটাতার দেওয়া হচ্ছে সেটা চাষীদের নিজস্ব না বনদপ্তরের সেটাও দেখা প্রয়োজন। সাথে সাথে এভাবে হাতির গতিপথে বাধার সৃষ্টিকারী
বেড়া দেওয়ার
যৌক্তিকতা কতখানি সেটাও আমরা দেখবো। হাতির করিডর স্বাভাবিক থাকা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে হাতিদের স্বাভাবিক যাওয়া আসায় সমস্যা হতে পারে। আমরা খুব শীঘ্রই গ্রামবাসীদের জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হবার উৎকণ্ঠা ঠেকাতে গ্রামবাসীদের সাথে আলোচনায় বসব। প্রশ্ন-এসবের মাঝে চাষিরা চটজলদি আদৌ কোন সুফল পেলেন কিনা– সেটাই এখন দেখার।।
