পুজো আসে, পূজো যায়। দুঃখ-যন্ত্রণা কিন্তু থেকে যায়

 পুজো আসে, পূজো যায়। দুঃখ-যন্ত্রণা কিন্তু থেকে যায়

সত্যেন্দ্রনাথ পাইন :

কাম ক্রোধ লোভ মোহ মদ মাৎসর্য এই ষড় রিপুর মধ্যে বর্তমানে কাম অর্থাৎ কামনা বা সেক্সচুয়াল ঘটনায় কিছু উদগ্র মানুষের ভীষণ ইচ্ছে দেখা যাচ্ছে। প্রায়শই অভিযোগ আসছে এই ধরনের ঘটনার। যার ফল সমাজে একটা বিশৃঙ্খল সৃষ্টি । আমাদের বলতে বা বুঝতে অসুবিধা নেই সাম্প্রতিক ৯ আগস্ট কলকাতা আরজি কর কলেজ এ যে ঘটনা ঘটেছে তাতে রাজ্যে পরিস্থিতি উত্তপ্ত শুধু নয়, স্বাভাবিক পরিস্থিতি বিনস্ত হয়েছে , চলছে লাগাতার আন্দোলন। স্বাভাবিকভাবেই সেই ঘটনার জেরে পশ্চিমবঙ্গের স্বাভাবিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়েছে । আগের মত তীব্র না হলেও মহালয়ার দিনও আন্দোলন জারি ছিল রাজ্যের বিভিন্ন শহরে।
বলাৎকার বা যৌন নিগ্রহ ইতি উতি ক্রমান্বয়ে বাড়ছে, কিন্তু কেন? দিকে দিকে তাকিয়ে মুচকি মুচকি হাসছে নতুন প্রজন্ম। ( ভারতের) এই রিপুর প্রাদুর্ভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে কিন্তু সেগুলো কি কোন বিক্ষিপ্ত ঘটনা!!কেন তার বিশদ আলোচনা না করেও বলি- কাম না থাকলে যেমন ফসল ফলতো না, তেমনি এই কামনা যদি সুর তাল হারিয়ে কেবল সেক্সচুয়াল জীবন যাপন করতে বাধ্য করে তাহলে আমরা হয়তো আমাদের জীবদ্দশাতেই দেখবো মানব কূলের ভয়ানক পরিণতি!!!
ভগবান শ্রীকৃষ্ণ তাঁর ছেলে শাম্বো যে নারীর প্রতি বিসদৃশ কামনার বশীভূত হয়ে ঘটনা ঘটিয়েছে তার জন্য পুরো যদুবংশ অর্থাৎ যাদব বংশের ধ্বংসের প্রতি তাঁর যাবতীয় কার্যকলাপের ইঙ্গিত দিয়েছেন , যেটা সম্পূর্ণ আমরা পড়েছি। এখনকার সংস্কৃতি কী তাহলে সেদিকেই এগিয়ে চলেছে? এখন মানুষ নিজের অজান্তেই নিজের পরিচিতর ওপরই বলাৎকার করছে। দেশের বিভিন্ন কোনায় কোনায় আমরা কখনো কখনো শুনি- মায়ের চোখের সামনে মেয়ে ও মায়ের ওপর পাশবিক নির্যাতনের শিকার সংগঠিত হয়েছে। তাহলে কি সমাজের কিছু পাষন্ডদের জন্য সারমেয়দের মতো হয়ে যাচ্ছি? তাহলে আমাদের পরিণতিও হয়তো ঐ যাদব কূলের মতো ই হবে নাতো!আবার লক্ষ্য করলাম হরিয়ানায় ধর্মীয় গুরু রাম রহিম যে একাধিক খুন ও ধর্ষণকাণ্ডে অভিযুক্ত ,কুড়ি বছরের সাজায় দণ্ডিত , কুড়ি দিনের জন্য প্যারোলে মুক্তি! আর সেই মুক্তি কোন নির্বাচনের আগে ! সাধারণ মানুষ এসব দেখে বিতশ্রদ্ধ। সাধারণ মানুষ চায় যে কোন অপরাধের সঠিক বিচার আর সেই বিচার থেকে বঞ্চিত হলে মানুষের ক্ষোভ হওয়াটা কি অন্যায়?
তাই বলি – কলকাতায় তিলোত্তমা বলতে যাকে আমরা এখন বুঝি,আরজি করে ঐ মেধাবী মেয়ে সব জেনে গেছিল এবং বলেছিল- আমি সব ফাঁস করে দেবো। এই তার ভুল! তাছাড়া সেদিনের ঘটনার আকস্মিকতায় হতভম্ব হয়ে আমি বুঝতে পারলাম – মেয়েটি অন্যায়ের বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছিল!! সে সেদিনের রাতটা পার করতে পারলো না। অর্থাৎ যা ঘটছে ঘটুক। তুমি চোখ আছে দেখো, কান আছে শোনো কোনো কিছুই প্রতি বাদ কোরোনা। তাহলে ঐ আর জি করে যা ঘটেছে সেটাই হবে ‌ এবং আমার সন্দেহ ,যদি সুবিচার না পায, তাহলে তো মানুষ এর একটা অংশ ( গরু গাধা কুকুর) হয়ে সবাই কে ধমকাবে, চমকাবে। মাননীয় বিচারপতিগণ, সুবিচার দিন। মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে সহানুভূতির দৃষ্টিতে দেখে কিছু একটা বিহিত করুন।।

সারথি  নিউজ অনলাইন