বাবা রামদেবের সংস্থা পতঞ্জলির উৎপাদিত পণ্য সুপ্রিম নির্দেশে নিষিদ্ধ ঘোষিত —কেন? জানতে পড়ুন
সারথি অনলাইন ডেস্ক :
বহুলচর্চিত জনপ্রিয় যোগ বাবা “রামদেব” র সংস্থা পতঞ্জলিকে সুপ্রিম কোর্টের তিরস্কার, সাথে সাথে উত্তরাখন্ড ড্রাগ কন্ট্রোল বিভাগও পতঞ্জলির দিব্য ফার্মেসি কোম্পানির মোট ১৬টি প্রোডাক্ট কে চিহ্নিত করলেও সর্বমোট ১৪ টি তাদের উৎপাদিত পণ্যকে নিষিদ্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন। সুধী পাঠক, দেশের উপভোক্তাদের কাছে এই পণ্যগুলি ইতিমধ্যেই ধীরে ধীরে সাধারণ এবং এলিট মানুষদের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠছিল। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের এক রায় তে এই প্রোডাক্ট গুলি বাতিল হওয়ার জন্য পতঞ্জলির মত জনপ্রিয় ব্র্যান্ড নেম সাধারণের কাছে প্রশ্নের মুখে! যে যে উৎপাদিত পণ্যগুলি এই মুহূর্তে নিষিদ্ধ বলে ঘোষিত হয়েছে সেগুলি হল-এক্সট্রা পাওয়ার, লিভামৃত , লীভো গ্রিট গোল্ড, লিপিডম, বিপি গ্রিট, মধুক্রিট, মধুনাসিনী, শাঁসারি প্রবাহী, শাশারী আভালেও সহ আরো কয়েকটি উৎপাদিত পণ্য।

কিন্তু কি কারনে সুপ্রিম কোর্ট বাবা রামদেবের সংস্থার উৎপাদিত এই পণ্যগুলিকে নিষিদ্ধ করেছে তার কারণ এটাই– দেশের সাধারণ মানুষ এর কাছে বিভ্রান্তিমূলক বিজ্ঞাপনের দায়ের করা মামলায় সর্বোচ্চ আদালতের এই নির্দেশ। উল্লেখ্য, পতঞ্জলির উৎপাদিত একটি পণ্য নিয়ে বহু বছর আগেও বিতর্ক এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল তা নিয়ে দেশজুড়ে (হাড় তত্ত্ব)শোরগোল পড়ে গিয়েছিল। দেশের সর্বোচ্চ বিচারালয়ের পরে পরে এবারে উত্তরাখন্ড ড্রাগ কন্ট্রোল বিভাগও পতঞ্জলির উৎপাদিত পণ্যের গুণমান নিয়ে তাদের বিজ্ঞাপন বিভ্রান্তিমূলক ও অভিসন্ধিমূলক বলে নির্দেশ জারি করেন, তারা বলেন- দেশজুড়ে পতঞ্জলির দিব্য ফার্মেসির উৎপাদিত প্রোডাক্টগুলির বিজ্ঞাপন সাধারণ মানুষের কাছে পরিষেবা গুলি নিয়ে ভুল সংকেত পৌঁছাচ্ছে।। তাই তারা বাবা রামদেবের উৎপাদিত সংস্থার ড্রাগ লাইসেন্স বাতিল করা নির্দেশ দিয়েছেন। সুপ্রিম কোর্টও এ ব্যাপারে প্রায় একই মত প্রকাশ করেছে। স্বভাবতই রামদেব এবং তাদের উৎপাদিত সংস্থার কর্তা ব্যক্তিগণ এ ব্যাপারে আগাম বিপদ অনুধাবন করে সুপ্রিম কোর্টের নিকট লিখিত ক্ষমাপ্রদর্শন করেছেন কিন্তু শুধু ক্ষমাই একমাত্র যথেষ্ট নয় বলে সুপ্রিম কোর্ট এ ব্যাপারে এখনো বিষয়টিকে গুরুতর বলে বিবেচনা করছেন।
এ কথা বলতেই হয়- করোনার সময় তাদের উৎপাদিত পণ্য “করোনারি”ই covid ১৯ এর বিপদ থেকে একমাত্র বাঁচার পথ বলে অভিহিত করেছিলেন– স্বয়ং যোগগুরু রামদেব। এটা নিয়ে ‘ইন্ডিয়ান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন’-র সভাপতি ডাক্তার আর বি বলেন- উনি সব সীমার অতিক্রম করেছিলেন। বিজ্ঞানকেও তিনি আমল দিতে চাননি, এখানেই আমাদের আপত্তি। পতঞ্জলির সম্প্রতি উৎপাদিত নিষিদ্ধ পণ্য গুলির উপর আমাদেরও নজর রইল।।
সারথি NEWS অনলাইন
